ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের জমি, ফ্ল্যাট জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশিদের ৫ দশমিক ২৯ বিঘা জমিসহ প্লট, ফ্ল্যাট জব্দ এবং গাড়ি, সঞ্চয়পত্রসহ আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

হারুন-অর-রশিদের জব্দ হওয়া সম্পদগুলো বরিশাল, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ কল্যাণপুরের ১১ তলার একটি টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট, পূর্বাঞ্চলের নিউ টাউনের ৩ কাঠার প্লট এবং ধানমন্ডিতে ৪ হাজার ২১৮ বর্গফুটের এক তলা ভবন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ হওয়া এই সম্পদের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৮ টাকা। একটি গাড়ির মূল্য, একটি সঞ্চয়পত্র ও আটটি ব্যাংক হিসাবে আছে ২ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬ টাকা।

দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ জব্দ ও অবরুদ্ধের আবেদন করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাসের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। নিজ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ৪২৬ টাকা জমা ও ২৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৩ টাকা উত্তোলন করেছেন, যার মোট পরিমাণ ৫৭ কোটি ৭০ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ টাকা। তিনি সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুস’ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে এটার রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, আসামি তার সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি, হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। সেজন্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করে রিসিভার নিয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হারুন-অর-রশিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ বছরের ৬ আগস্ট মামলা করে দুদক।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের জমি, ফ্ল্যাট জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশিদের ৫ দশমিক ২৯ বিঘা জমিসহ প্লট, ফ্ল্যাট জব্দ এবং গাড়ি, সঞ্চয়পত্রসহ আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

হারুন-অর-রশিদের জব্দ হওয়া সম্পদগুলো বরিশাল, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ কল্যাণপুরের ১১ তলার একটি টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট, পূর্বাঞ্চলের নিউ টাউনের ৩ কাঠার প্লট এবং ধানমন্ডিতে ৪ হাজার ২১৮ বর্গফুটের এক তলা ভবন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ হওয়া এই সম্পদের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৮ টাকা। একটি গাড়ির মূল্য, একটি সঞ্চয়পত্র ও আটটি ব্যাংক হিসাবে আছে ২ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬ টাকা।

দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ জব্দ ও অবরুদ্ধের আবেদন করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাসের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। নিজ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ৪২৬ টাকা জমা ও ২৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৩ টাকা উত্তোলন করেছেন, যার মোট পরিমাণ ৫৭ কোটি ৭০ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ টাকা। তিনি সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুস’ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে এটার রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, আসামি তার সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি, হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। সেজন্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করে রিসিভার নিয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হারুন-অর-রশিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ বছরের ৬ আগস্ট মামলা করে দুদক।