ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইনকৃত ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার বিষয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ফ্লাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
একই অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে আইস (ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন) আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























