ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছ কর্তনে কঠোর আইনের দাবি জামায়াত নেতার

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গাছ কাটার ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গাছ কর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশে সামাজিক বনায়ন বা সরকারি যেকোনো গাছ কাটতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মে অনুমতি না লাগলেও, সরকারি নির্দেশনা ও আইনি কাঠামোর সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। তিনি জনগণের মাঝে পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

তিনি সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দকে “শুভঙ্করের ফাঁকি” আখ্যায়িত করে বলেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট কোথায় ব্যয় হয় জনগণ তা জানে না, দেখে না। তার অভিযোগ, লুটপাট ও ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সেই বাজেটের বরাদ্দ নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয়, যার ফলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই বিশাল ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারকে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে সাংসদ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে দুর্নীতির পথ তৈরির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। তার মতে, এটি বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশকে আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার দাবি, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি, কারণ সরকার দুর্নীতি দমনে আগ্রহী নয়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, ঘুরেফিরে রাজনীতিবিদদের ওপর দায় আসে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে পরিস্থিতি কতটা জটিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমি আলেমদের অবদানের মূল্যায়ন ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংসদে আলোচনা

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছ কর্তনে কঠোর আইনের দাবি জামায়াত নেতার

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গাছ কাটার ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গাছ কর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশে সামাজিক বনায়ন বা সরকারি যেকোনো গাছ কাটতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মে অনুমতি না লাগলেও, সরকারি নির্দেশনা ও আইনি কাঠামোর সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। তিনি জনগণের মাঝে পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

তিনি সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দকে “শুভঙ্করের ফাঁকি” আখ্যায়িত করে বলেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট কোথায় ব্যয় হয় জনগণ তা জানে না, দেখে না। তার অভিযোগ, লুটপাট ও ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সেই বাজেটের বরাদ্দ নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয়, যার ফলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই বিশাল ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকারকে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে সাংসদ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে দুর্নীতির পথ তৈরির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। তার মতে, এটি বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশকে আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার দাবি, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি, কারণ সরকার দুর্নীতি দমনে আগ্রহী নয়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, ঘুরেফিরে রাজনীতিবিদদের ওপর দায় আসে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে পরিস্থিতি কতটা জটিল।