ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি নারীর দেশে ফেরা, বেনাপোলে হস্তান্তর

ভারতে পাচার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ছয় বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরেছেন। বুধবার দুপুরে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবর্তনের কাজটি সম্পন্ন হয়।

ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হায়দ্রাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে গত ২৯ মে ও ১২ জুন জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ এবং ‘এক্সিট পারমিট’ এর আওতায় তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফেরত আসা নারীরা হলেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নুসরাত মণ্ডল ওরফে তাহমিনা আক্তার, যশোরের শার্শা উপজেলার ফাতেমা জিন্নাত, ঢাকার মিরপুর এলাকার ইতি শেখ ওরফে মিম আক্তার শান্তি, শরীয়তপুরের সাদিয়া আক্তার, টাঙ্গাইলের রিফা খাতুন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরোহী মণ্ডল ওরফে শ্রুফা আক্তার।

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেরত আসা নারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তারা বিভিন্ন সময়ে দালাল চক্রের প্ররোচনায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান এবং পরে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে তারা হায়দ্রাবাদের কারাগারে প্রায় তিন বছর সাজাভোগ করেন।

সাজা শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের বিভিন্ন সেল্টার হোমে রাখা হয়। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় বাংলাদেশি নারীকে গ্রহণ করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত আসা নারীদের পুনর্বাসন ও পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এর ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের যশোরে সংস্থার হোমে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি নারীর দেশে ফেরা, বেনাপোলে হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভারতে পাচার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ছয় বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরেছেন। বুধবার দুপুরে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবর্তনের কাজটি সম্পন্ন হয়।

ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হায়দ্রাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে গত ২৯ মে ও ১২ জুন জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ এবং ‘এক্সিট পারমিট’ এর আওতায় তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফেরত আসা নারীরা হলেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নুসরাত মণ্ডল ওরফে তাহমিনা আক্তার, যশোরের শার্শা উপজেলার ফাতেমা জিন্নাত, ঢাকার মিরপুর এলাকার ইতি শেখ ওরফে মিম আক্তার শান্তি, শরীয়তপুরের সাদিয়া আক্তার, টাঙ্গাইলের রিফা খাতুন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরোহী মণ্ডল ওরফে শ্রুফা আক্তার।

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেরত আসা নারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তারা বিভিন্ন সময়ে দালাল চক্রের প্ররোচনায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান এবং পরে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে তারা হায়দ্রাবাদের কারাগারে প্রায় তিন বছর সাজাভোগ করেন।

সাজা শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের বিভিন্ন সেল্টার হোমে রাখা হয়। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় বাংলাদেশি নারীকে গ্রহণ করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত আসা নারীদের পুনর্বাসন ও পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এর ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের যশোরে সংস্থার হোমে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।