দেশের মহাসড়কগুলোতে দূরপাল্লার বাস, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। অনেক সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ চালনার ভিডিও ধারণ করে ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশায় সেগুলো ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে নেতিবাচক প্রবণতা উৎসাহিত করলেও হাইওয়ে পুলিশ এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেকেই এমন ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভাইরাল হওয়ার নেশায় বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতার ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। অনেক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই বা ততোধিক বাস, মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন গতির অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে, যা যাত্রী ও চালকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভিডিও ধারণের সময় অনেক ক্ষেত্রে চালক, চালকের সহযোগী এবং অন্যদের উৎসাহিত করার মতো কথাবার্তাও শোনা যাচ্ছে। কখনো কখনো ভিডিওতে মারাত্মক দুর্ঘটনার চিত্রও দেখানো হচ্ছে। এমন ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে আপলোড হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখছেন এবং লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করছেন। কিছু ব্যক্তি এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যেমন ভিডিও ধারণের প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে সড়কে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে ‘বাস লাভার’ যুক্ত করে অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতার ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। এতে কোনো কোনো বাস কোম্পানির নাম উল্লেখ করে ‘মহাসড়কের কিং’-এর মতো বিভিন্ন আখ্যা দিয়ে ভিডিওগুলো অনলাইনে ছাড়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই এমন ভিডিও অসংখ্য ফেসবুক পেজ, অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়ছে। এই তালিকায় বাসচালক ও চালকের সহযোগীসহ অনেকে রয়েছেন। একইভাবে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতার ভিডিওও ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি বাইকাররা তাদের রেসিংয়ের ভিডিও হেলমেট ক্যামেরা বা অ্যাকশন ক্যামেরায় ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















