ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ সম্পন্ন, আজ উদ্বোধন

ঝিনাইদহ পৌরসভায় আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু জবাইয়ের জন্য নির্মিত দেশের অন্যতম সর্বাধুনিক কসাইখানাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন লাইভ-স্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর আওতায় এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কসাইখানাটি উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কসাইখানাটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টালটেক এনএকে (জেভি) নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আধুনিক এই কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল পশু জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

ঝিনাইদহের পৌর প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, এই সর্বাধুনিক কসাইখানায় গরু ও ছাগল আলাদাভাবে জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুটি পৃথক স্লটার লাইন রয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, পশু জবাইয়ের আগে ধৌতকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এখানে একটি বিশেষ হোল্ডিং জোন রয়েছে। এছাড়াও, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো এবং কাটার জন্য স্লটার বক্স, ওভারহেড রেল, নিউমেটিক কাটার, ওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, ওজন মাপার স্কেল, চামড়া তোলার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত এবং বিশেষ হুক-এর ব্যবস্থা রয়েছে। মাংসের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সংরক্ষণের জন্য আধুনিক চিলিং রুম ও কম্প্রেশার রুমও স্থাপন করা হয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কসাইখানায় নিজস্ব জেনারেটর, সাবস্টেশন এবং পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, এখানে শক্তিশালী ওয়াটার পাম্প, গরম পানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ফিল্টার বেডসহ একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের পার্কে বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ সম্পন্ন, আজ উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৮:১১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহ পৌরসভায় আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু জবাইয়ের জন্য নির্মিত দেশের অন্যতম সর্বাধুনিক কসাইখানাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন লাইভ-স্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর আওতায় এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কসাইখানাটি উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কসাইখানাটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টালটেক এনএকে (জেভি) নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আধুনিক এই কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল পশু জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

ঝিনাইদহের পৌর প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, এই সর্বাধুনিক কসাইখানায় গরু ও ছাগল আলাদাভাবে জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুটি পৃথক স্লটার লাইন রয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, পশু জবাইয়ের আগে ধৌতকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এখানে একটি বিশেষ হোল্ডিং জোন রয়েছে। এছাড়াও, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো এবং কাটার জন্য স্লটার বক্স, ওভারহেড রেল, নিউমেটিক কাটার, ওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, ওজন মাপার স্কেল, চামড়া তোলার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত এবং বিশেষ হুক-এর ব্যবস্থা রয়েছে। মাংসের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সংরক্ষণের জন্য আধুনিক চিলিং রুম ও কম্প্রেশার রুমও স্থাপন করা হয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কসাইখানায় নিজস্ব জেনারেটর, সাবস্টেশন এবং পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, এখানে শক্তিশালী ওয়াটার পাম্প, গরম পানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ফিল্টার বেডসহ একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও রয়েছে।