জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি-জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে এখনো চারটি পত্রিকা থাকত এবং তিনি নিজেই সেগুলোর সম্পাদক হতেন। মঙ্গলবার সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাঈম আহমাদ আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে বঙ্গবন্ধু যমুনা টেলিভিশন, আমার দেশ পত্রিকা বা প্রথম আলোর মতো গণমাধ্যমকে শুরুতেই অনুমোদন দিতেন না। তিনি মনে করেন, পত্রিকা বন্ধের মাত্র দুই মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু তাঁর উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়েছিল। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান সহ বেশ কিছু গণমাধ্যম বন্ধ করলেও, তিনি (নাঈম আহমাদ) মনে করেন, আল্লাহ তাঁকে (শেখ হাসিনাকে) ভিন্ন পথে পরিচালিত করেছেন এবং এর ফলে মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পরও গণমাধ্যমের প্রকৃত বিকাশ ঘটেনি। অনেক গণমাধ্যম আওয়ামী লীগের সমর্থকগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে এবং বিএনপিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে চিত্রিত করার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। তিনি এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বিএনপি যদি ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
নাঈম আহমাদ আক্ষেপ করে বলেন, একসময় দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার, ইত্তেফাক এবং বাংলাদেশ টাইমস—এই চারটি পত্রিকা ছাড়া অন্য সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা বাকশালের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করত। তাঁর মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ‘বাংলাদেশের মুখপাত্র’ হিসেবে কাজ করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম নেই; বরং কিছু দলীয়, মাফিয়া বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবেই গণমাধ্যমগুলো কাজ করছে।
ডিজিটাল যুগে ক্ষমতাবানরা ডিজিটাল মিডিয়াকে ভয় পান বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই কারণে তারা ‘মোজো সাংবাদিকদের’ বিরুদ্ধে প্রায়শই কটূক্তি ও অপপ্রচার চালান। তিনি বলেন, মোজো সাংবাদিকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ দেখা দিলে মোজো সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের পক্ষে লড়াই করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মুখপাত্র তাহসিন নাভিদ নির্ণয় ডানপন্থী ও প্রগতিশীল উভয় পক্ষের মধ্যেই গণমাধ্যমে হামলার ক্ষেত্রে মৌলবাদী আচরণের অভিযোগ আনেন এবং প্রথম আলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















