ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পিতৃভূমির জালে গোল দিয়েও ক্ষমা চাইলেন সুইডিশ তরুণ আয়ারি, যা ছুঁয়ে গেল ফুটবল বিশ্ব

ফুটবল মাঠে গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস একটি সাধারণ চিত্র। তবে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে তিউনিসিয়ার এক ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করার পর উল্লাসের পরিবর্তে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ২২ বছর বয়সী সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। এরপর তিনি সিজদাও করেন। নিজের পিতৃভূমির জালে বল জড়িয়ে আয়ারির এই ক্ষমা প্রার্থনা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ইয়াসিন আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে হলেও তার রক্তে বইছে উত্তর আফ্রিকার ধারা। তার বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান। চার বছর আগে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার তিউনিসিয়া জাতীয় দলে খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু আয়ারি ও তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি সুইডেনকেই বেছে নেন। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটোনব্লাডেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বাবা বলেছিলেন, ‘যে দেশ আমার ছেলের খেয়াল রেখেছে, তার উচিত সে দেশকেই প্রতিদান দেওয়া।’

বিশ্বকাপের ড্র ঘোষণার সময় বাবার দেশের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চ আয়ারিকে স্পর্শ করেছিল। নিজের অভিষেক ম্যাচেই তিনি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে জন্মভূমির প্রতি নিজের সহজাত দায় মেটান; কিন্তু রক্তের টানও ভোলেননি। তাই প্রথম গোলের পর কোনো উদযাপন ছিল না। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, তখন আবেগের বাঁধ ভেঙে যায়। শেষ গোলটি তিনি উদযাপন করেন ভক্তদের সঙ্গে।

সাত বছর বয়সে রাসুন্ডা যুব দল দিয়ে তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয় এবং পরে তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জায়ান্ট ক্লাব এআইকেতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এবং একই বছর সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয়।

পিতৃভূমির লাল-সাদা জার্সি ছেড়ে সুইডেনের হলুদ-নীল জার্সি গায়ে জড়ানো আয়ারির এই জোড়া গোলের রাতটি কেবল মাঠের আধিপত্যের গল্প নয়; এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় শিকড় ও কর্তব্যের টানাপোড়েনের এক অনন্য মানবিক দলিল হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘দেশ বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না’, আশ্বাস উপদেষ্টার

পিতৃভূমির জালে গোল দিয়েও ক্ষমা চাইলেন সুইডিশ তরুণ আয়ারি, যা ছুঁয়ে গেল ফুটবল বিশ্ব

আপডেট সময় : ০১:০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ফুটবল মাঠে গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস একটি সাধারণ চিত্র। তবে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে তিউনিসিয়ার এক ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করার পর উল্লাসের পরিবর্তে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ২২ বছর বয়সী সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। এরপর তিনি সিজদাও করেন। নিজের পিতৃভূমির জালে বল জড়িয়ে আয়ারির এই ক্ষমা প্রার্থনা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ইয়াসিন আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে হলেও তার রক্তে বইছে উত্তর আফ্রিকার ধারা। তার বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান। চার বছর আগে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার তিউনিসিয়া জাতীয় দলে খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু আয়ারি ও তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি সুইডেনকেই বেছে নেন। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটোনব্লাডেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বাবা বলেছিলেন, ‘যে দেশ আমার ছেলের খেয়াল রেখেছে, তার উচিত সে দেশকেই প্রতিদান দেওয়া।’

বিশ্বকাপের ড্র ঘোষণার সময় বাবার দেশের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চ আয়ারিকে স্পর্শ করেছিল। নিজের অভিষেক ম্যাচেই তিনি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে জন্মভূমির প্রতি নিজের সহজাত দায় মেটান; কিন্তু রক্তের টানও ভোলেননি। তাই প্রথম গোলের পর কোনো উদযাপন ছিল না। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, তখন আবেগের বাঁধ ভেঙে যায়। শেষ গোলটি তিনি উদযাপন করেন ভক্তদের সঙ্গে।

সাত বছর বয়সে রাসুন্ডা যুব দল দিয়ে তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয় এবং পরে তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জায়ান্ট ক্লাব এআইকেতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এবং একই বছর সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয়।

পিতৃভূমির লাল-সাদা জার্সি ছেড়ে সুইডেনের হলুদ-নীল জার্সি গায়ে জড়ানো আয়ারির এই জোড়া গোলের রাতটি কেবল মাঠের আধিপত্যের গল্প নয়; এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় শিকড় ও কর্তব্যের টানাপোড়েনের এক অনন্য মানবিক দলিল হয়ে থাকবে।