ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

হল ছাড়লেন জাকসু জিএস, স্মৃতিচারণ করে লিখলেন আবেগঘন পোস্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হলের সিট ছেড়ে দিয়েছেন। হল জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এক আবেগঘন পোস্ট লিখেছেন। একইসঙ্গে, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর যথাসময়ে হল ত্যাগের একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জিএস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি স্মৃতিময় অধ্যায়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নান্দনিক আবাসিক হল মওলানা ভাসানী হলে ওঠেন এবং এখানেই পড়াশোনা, খেলাধুলা, ক্লাবিংসহ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন। হলের করিডোর, খেলার মাঠ, কমনরুম, মসজিদ, ক্যান্টিন ও রিডিং রুমের প্রতিটি কোণায় তার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমনকি হল প্রাঙ্গণের পরিচিত বিড়ালগুলোর সঙ্গেও গড়ে উঠেছে তার আন্তরিক সম্পর্ক।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি, শীতের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং গ্রীষ্মের বিকেলের কালবৈশাখির রূপ এই হল থেকেই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। হলের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিবেশ তার কাছে বিশেষ নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে বলে তিনি জানান।

মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে জিএস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি নিজের হলের সিট ছেড়ে দিচ্ছেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার নিকটতম সময়ের মধ্যেই সবার উচিত হল ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নবীনদের জন্য আবাসন সংকট নিরসনে সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত সিট হস্তান্তর ও সময়মতো হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ক্যাম্পাসে আরও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে হত্যা মামলা

হল ছাড়লেন জাকসু জিএস, স্মৃতিচারণ করে লিখলেন আবেগঘন পোস্ট

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হলের সিট ছেড়ে দিয়েছেন। হল জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এক আবেগঘন পোস্ট লিখেছেন। একইসঙ্গে, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর যথাসময়ে হল ত্যাগের একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জিএস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি স্মৃতিময় অধ্যায়। করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নান্দনিক আবাসিক হল মওলানা ভাসানী হলে ওঠেন এবং এখানেই পড়াশোনা, খেলাধুলা, ক্লাবিংসহ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন। হলের করিডোর, খেলার মাঠ, কমনরুম, মসজিদ, ক্যান্টিন ও রিডিং রুমের প্রতিটি কোণায় তার অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমনকি হল প্রাঙ্গণের পরিচিত বিড়ালগুলোর সঙ্গেও গড়ে উঠেছে তার আন্তরিক সম্পর্ক।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি, শীতের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল সৌন্দর্য এবং গ্রীষ্মের বিকেলের কালবৈশাখির রূপ এই হল থেকেই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। হলের প্রতিটি মুহূর্ত ও পরিবেশ তার কাছে বিশেষ নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে বলে তিনি জানান।

মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে জিএস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি নিজের হলের সিট ছেড়ে দিচ্ছেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার নিকটতম সময়ের মধ্যেই সবার উচিত হল ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নবীনদের জন্য আবাসন সংকট নিরসনে সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্ত একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত সিট হস্তান্তর ও সময়মতো হল ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ক্যাম্পাসে আরও মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।