কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে কার্যত ‘লাল কার্ড’ দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান ওসির কর্মকাণ্ডে তিনি চরম অসন্তুষ্ট এবং তাকে লালমাই থানা থেকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে লালমাই উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এমপি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘লালমাইয়ের ওসিকে আমি লাল কার্ড দেখিয়েছি। এই ওসি আমার এলাকায় থাকার প্রয়োজন নেই। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই।’
এমপি মোবাশ্বের আলম অভিযোগ করেন, লালমাই থানায় যোগদানের পর থেকে ওসি নুরুজ্জামান এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তার ভাষ্যমতে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এলাকায় গেলে অনেক সময় তাকে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা মেলে না। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, ওসি তাকে আইন শেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত। তিনি মনে করেন, ওসির কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মোবাশ্বের আলম দাবি করেন, তিনি বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছেন। তিনি ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু তারপরও তাকে সরানোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তিনি প্রয়োজনে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করার কথা বলেছেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং গণমাধ্যমের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
রিপোর্টারের নাম 



















