ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ইসরায়েলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহু কোণঠাসা: জোটের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব

লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিজস্ব জোটের সদস্যরাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তারা মনে করছেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়াহসহ লেবাননে আক্রমণ বন্ধ করে নেতানিয়াহু ‘নতি স্বীকার’ করেছেন, যা তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ও লক্ষ্যবস্তু ‘মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার’ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রায় একই ধরনের সুর শোনা গেছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের গলাতেও।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণ আসন্ন সাধারণ নির্বাচন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলি জনগণকে যে লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পারেননি। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন অন্য রাজনীতিকরা। তারা নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা, এমনকি তার জোটের শরিকরাও প্রচার করছেন যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছেও তার আগের মতো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন সব পক্ষ।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহু তার পুরনো কৌশল খাটাতে পারেন। নির্বাচন আরও পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হয়তো হঠাৎ বড় কোনো বিমান হামলা বা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহু কোণঠাসা: জোটের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিজস্ব জোটের সদস্যরাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তারা মনে করছেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়াহসহ লেবাননে আক্রমণ বন্ধ করে নেতানিয়াহু ‘নতি স্বীকার’ করেছেন, যা তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ও লক্ষ্যবস্তু ‘মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার’ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রায় একই ধরনের সুর শোনা গেছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের গলাতেও।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণ আসন্ন সাধারণ নির্বাচন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলি জনগণকে যে লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পারেননি। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন অন্য রাজনীতিকরা। তারা নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা, এমনকি তার জোটের শরিকরাও প্রচার করছেন যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছেও তার আগের মতো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন সব পক্ষ।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহু তার পুরনো কৌশল খাটাতে পারেন। নির্বাচন আরও পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হয়তো হঠাৎ বড় কোনো বিমান হামলা বা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।