ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ: ইকুয়েডর-আইভরি কোস্টের রোমাঞ্চকর লড়াই, নকআউট পর্বের হাতছানি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের অভিযান শুরু করতে চলেছে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গ্রুপে জার্মানিকে শীর্ষে থাকার সম্ভাব্য দাবিদার মনে করা হলেও, নকআউট পর্বে এগিয়ে থাকতে এই ম্যাচের গুরুত্ব উভয় দলের কাছেই অপরিসীম।

দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছে আইভরি কোস্ট। ২০১৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে হৃদয় ভাঙা হারের পর টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি আফ্রিকার তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবার এমেরসে ফায়ের অধীনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে ‘এলিফ্যান্টস’রা। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে না পারলেও, ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবেও পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকায় আশাবাদী আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা এই ম্যাচে নামবে।

তবে প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। দুবছর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলের হারই ছিল তাদের সর্বশেষ পরাজয়। এরপর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের দল। ইকুয়েডরের এই সাফল্যের মূল শক্তি তাদের রক্ষণভাগ; ১৯ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রায় তারা ১৩ ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। তবে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, কারণ এই সময়ে তারা ম্যাচপ্রতি গড়ে মাত্র এক গোল করেছে। ফলে ড্রকে জয়ে রূপান্তর করতে হলে ফরোয়ার্ডদের আরও কার্যকর হতে হবে।

আইভরি কোস্টের শক্তির জায়গা তাদের উইং আক্রমণ। আমাদ দিয়ালো, ইয়ান দিয়োমান্দে, নিকোলাস পেপে ও সিমন আদিংরার মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই প্রান্ত থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবেন কোচ ফায়ে। তবে স্কোয়াডে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়ান হালের না থাকাটা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ফলে এলিয়ে ওয়াহি, ইভান গেসাঁ কিংবা আঞ্জ-ইওয়ান বনির মধ্য থেকে কাউকে আক্রমণের দায়িত্ব নিতে হবে। দলের জন্য আরও একটি বড় দুশ্চিন্তার নাম ইভান এনডিকা, রোম ডার্বিতে পাওয়া উরুর চোটের কারণে এই ডিফেন্ডারের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে, ইকুয়েডর শিবিরেও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে: দলের অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এনের ভ্যালেন্সিয়ার ফিটনেস পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত ইকুয়েডরের আক্রমণভাগ পরিচালিত হয়। তার অনুপস্থিতি দলটির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে ভ্যালেন্সিয়ার পাশাপাশি মোইসেস কাইসেদো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে, উইলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ফিফা বিশ্বকাপ: ইকুয়েডর-আইভরি কোস্টের রোমাঞ্চকর লড়াই, নকআউট পর্বের হাতছানি

আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের অভিযান শুরু করতে চলেছে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গ্রুপে জার্মানিকে শীর্ষে থাকার সম্ভাব্য দাবিদার মনে করা হলেও, নকআউট পর্বে এগিয়ে থাকতে এই ম্যাচের গুরুত্ব উভয় দলের কাছেই অপরিসীম।

দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছে আইভরি কোস্ট। ২০১৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে হৃদয় ভাঙা হারের পর টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি আফ্রিকার তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবার এমেরসে ফায়ের অধীনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে ‘এলিফ্যান্টস’রা। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে না পারলেও, ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবেও পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকায় আশাবাদী আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা এই ম্যাচে নামবে।

তবে প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। দুবছর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলের হারই ছিল তাদের সর্বশেষ পরাজয়। এরপর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের দল। ইকুয়েডরের এই সাফল্যের মূল শক্তি তাদের রক্ষণভাগ; ১৯ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রায় তারা ১৩ ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। তবে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, কারণ এই সময়ে তারা ম্যাচপ্রতি গড়ে মাত্র এক গোল করেছে। ফলে ড্রকে জয়ে রূপান্তর করতে হলে ফরোয়ার্ডদের আরও কার্যকর হতে হবে।

আইভরি কোস্টের শক্তির জায়গা তাদের উইং আক্রমণ। আমাদ দিয়ালো, ইয়ান দিয়োমান্দে, নিকোলাস পেপে ও সিমন আদিংরার মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই প্রান্ত থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবেন কোচ ফায়ে। তবে স্কোয়াডে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়ান হালের না থাকাটা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ফলে এলিয়ে ওয়াহি, ইভান গেসাঁ কিংবা আঞ্জ-ইওয়ান বনির মধ্য থেকে কাউকে আক্রমণের দায়িত্ব নিতে হবে। দলের জন্য আরও একটি বড় দুশ্চিন্তার নাম ইভান এনডিকা, রোম ডার্বিতে পাওয়া উরুর চোটের কারণে এই ডিফেন্ডারের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে, ইকুয়েডর শিবিরেও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে: দলের অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এনের ভ্যালেন্সিয়ার ফিটনেস পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই মূলত ইকুয়েডরের আক্রমণভাগ পরিচালিত হয়। তার অনুপস্থিতি দলটির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে ভ্যালেন্সিয়ার পাশাপাশি মোইসেস কাইসেদো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে, উইলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।