নোয়াখালী জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত ভোর রাতে। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাতের কোনো এক সময়ে তিন থেকে চারজন যুবক শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়। ঘটনার পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। গভীর রাত হওয়ায় এলাকাটিতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ফলে আগুন কিছু সময় জ্বললেও পরে নিজে থেকেই নিভে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার সময় একজন যুবক বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। ভিডিওতে আরও কয়েকজনকে স্লোগান দিতে এবং ঘটনাটির দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, একটি জাতীয় স্মৃতিচিহ্নে অগ্নিসংযোগ শুধু নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডই নয়, বরং জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টিরও অপচেষ্টা। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর সকালে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান নির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, “যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 





















