ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ঐতিহ্যের শাঁখাশিল্প সংকটে: পিরোজপুরের কারিগরদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে

হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে আছে বাংলাদেশের শাঁখাশিল্প। বিবাহিত হিন্দু নারীদের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত শঙ্খের তৈরি এই অলংকারটি দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। কাঁচামাল শঙ্খের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী শাঁখাশিল্পীরা শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে এ জেলার শাঁখাশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।

উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণ সুবিধার অভাব এবং একটি সুষ্ঠু নীতিমালার অনুপস্থিতি এই প্রাচীন শিল্পকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। অর্থনৈতিক দৈন্যের কারণে অনেক শিল্পী বাধ্য হচ্ছেন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে। শিল্পীরা জানান, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে প্রত্যেক শিল্পী পরিবারে ১০০টি করে প্রায় দেড় লাখ শঙ্খ সাহায্য হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই শিল্পের দিকে নজর দেয়নি বলে তারা ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তবুও অনেকেই নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে এর ঐতিহ্য ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পিরোজপুর শহরের রাজারহাটের শাঁখাশিল্পী জয় নন্দী জানান, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, ঋণ সুবিধার অভাব, নীতিমালার অনুপস্থিতি এবং অব্যবস্থাপনা এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, সরকারের সদিচ্ছার অভাবে শাঁখাশিল্পের বাজার ও ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

শাঁখা তৈরির মূল উপকরণ, বড় আকারের সাদা রঙের শামুক, একটি সামুদ্রিক জলজ প্রাণী। শ্রীলঙ্কার এক শ্রেণির মানুষ সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই শঙ্খ উত্তোলন করে থাকে। সেখান থেকেই শঙ্খ ভারত-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। একসময় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা এসব শঙ্খ আমদানি করতেন। পিরোজপুরের শাঁখাশিল্পীরা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারিপট্টি, কাজদিয়া, খুলনার ধর্মসভা রোড ও দোলখোলার শঙ্খের মোকাম থেকে শঙ্খ এনে তাদের কারখানায় অলংকার তৈরি করতেন। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে শঙ্খ আমদানি হয় না। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে শঙ্খ কিনে এনে শাঁখা বানাতে হয়, যা তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নজরদারিতে ফ্যামিলি কার্ড, জালিয়াতি ঠেকাতে আসছে স্মার্ট যাচাই ব্যবস্থা

ঐতিহ্যের শাঁখাশিল্প সংকটে: পিরোজপুরের কারিগরদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে আছে বাংলাদেশের শাঁখাশিল্প। বিবাহিত হিন্দু নারীদের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত শঙ্খের তৈরি এই অলংকারটি দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। কাঁচামাল শঙ্খের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী শাঁখাশিল্পীরা শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে এ জেলার শাঁখাশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।

উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণ সুবিধার অভাব এবং একটি সুষ্ঠু নীতিমালার অনুপস্থিতি এই প্রাচীন শিল্পকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। অর্থনৈতিক দৈন্যের কারণে অনেক শিল্পী বাধ্য হচ্ছেন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে। শিল্পীরা জানান, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে প্রত্যেক শিল্পী পরিবারে ১০০টি করে প্রায় দেড় লাখ শঙ্খ সাহায্য হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কোনো সরকার এই শিল্পের দিকে নজর দেয়নি বলে তারা ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তবুও অনেকেই নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে এর ঐতিহ্য ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পিরোজপুর শহরের রাজারহাটের শাঁখাশিল্পী জয় নন্দী জানান, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, ঋণ সুবিধার অভাব, নীতিমালার অনুপস্থিতি এবং অব্যবস্থাপনা এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, সরকারের সদিচ্ছার অভাবে শাঁখাশিল্পের বাজার ও ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

শাঁখা তৈরির মূল উপকরণ, বড় আকারের সাদা রঙের শামুক, একটি সামুদ্রিক জলজ প্রাণী। শ্রীলঙ্কার এক শ্রেণির মানুষ সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই শঙ্খ উত্তোলন করে থাকে। সেখান থেকেই শঙ্খ ভারত-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। একসময় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা এসব শঙ্খ আমদানি করতেন। পিরোজপুরের শাঁখাশিল্পীরা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারিপট্টি, কাজদিয়া, খুলনার ধর্মসভা রোড ও দোলখোলার শঙ্খের মোকাম থেকে শঙ্খ এনে তাদের কারখানায় অলংকার তৈরি করতেন। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে শঙ্খ আমদানি হয় না। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে শঙ্খ কিনে এনে শাঁখা বানাতে হয়, যা তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।