একসময় কুলজোড়া পানি আর বুকভরা ঢেউ নিয়ে বয়ে চলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী এখন তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অমর কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের এই নদী কয়েক দশকের দখল-দূষণে প্রায় মৃতপ্রায়। গভীর খননের অভাবে দিন দিন সংকুচিত হয়ে হারিয়েছে তার নাব্যতা, যা একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিসহ স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড ছিল।
নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে এক করুণ চিত্র। তিতাসের পানি এখন কচুরিপানায় ঢাকা, আর এর দুই পাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে অবৈধ দখলদারিত্ব। বিভিন্ন অংশে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, এমনকি নদীর পাড় বালু দিয়ে ভরাট করার ঘটনাও ঘটছে। ময়লা-আবর্জনার দূষণ, অবৈধ দখল এবং কচুরিপানার বিস্তার নদীর অস্তিত্বকে গুরুতর হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের আনন্দ বাজার, মেড্ডা বাজার, বাঁশ বাজার ও কারখানা ঘাটসহ তীরবর্তী এলাকার বাসাবাড়ি এবং বাজারের সব ধরনের বর্জ্য, এমনকি পশুর বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য পরিশোধনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পৌরসভা থেকেও এসব বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার না করায় আবর্জনা পচেগলে নদীর পানিতে মিশে বিষাক্ত করে তুলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নৌচলাচলেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় মানুষ তিতাস নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাড়ে ভিড় করত, আর এখন ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে চলাফেরাই কঠিন। আনন্দ বাজারের ঐতিহ্যবাহী নৌঘাটেও আবর্জনার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে এবং নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। গোকর্ণঘাট এলাকার জতীন্দ্র দাস আক্ষেপ করে বলেন, “তিতাসের করুণ দশা দেখে খুব কষ্ট পাই। একসময় এই নদীর ভরা জলে মাছ ধরে আমাদের জেলেপাড়ার জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো, অথচ এখন নদীতে আর আগের মতো পানিও নেই, মাছও নেই। আমাদের নতুন প্রজন্ম তিতাসের আঁচল আর খুঁজে পায় না।” আনন্দ বাজার এলাকার খুরশেদ মিয়া জানান, শহরের অধিকাংশ ড্রেনের ময়লা পানি এই নদীতে মিশছে এবং নদীর তীরগুলো বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন থেকে দখলদারদের তালিকা করা হলেও এখনো তেমন কোনো উচ্ছেদ অভিযান দেখা যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















