ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ী জামে মসজিদ: দুই শতাব্দীর স্থাপত্য ও কষ্টিপাথর চুরির আক্ষেপ

দুইশ বছরেরও বেশি পুরোনো মুসলিম স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন শেরপুরের ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ। ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি তার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য সুপরিচিত। ১৯৯৯ সাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তত্ত্বাবধানে থাকলেও, দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে এটি বেশ নাজুক অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, যা এর ঐতিহ্যকে নতুন জীবন দিয়েছে।

কালের আবর্তে ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ নামেই এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ধারণা করা হয়, বক্সার বিদ্রোহের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর সময়ে আজিমউল্লাহ খান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় মসজিদের দরজার ওপর মূল্যবান কষ্টিপাথরে আরবি ভাষায় এর প্রতিষ্ঠাকাল হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ সাল খোদাই করা ছিল। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সেই ঐতিহাসিক কষ্টিপাথরটি চুরি হয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আক্ষেপের সৃষ্টি করেছে।

মসজিদটির গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এটি বর্গাকার এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয় দিকই সমান ২৭ ফুট। এর ভেতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের মাঝখানে বড় গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় ১২টি মিনার রয়েছে। চার কোণায় শোভা পাচ্ছে চারটি সুউচ্চ মিনার। মসজিদে প্রবেশপথ মাত্র একটি। এর ভেতরের মেহরাব এবং দেয়ালজুড়ে রয়েছে নানা কারুকাজ সমৃদ্ধ ফুলদানি ও ফুলের নকশা। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি চার ফুট প্রশস্ত, যা প্রাচীন চুন ও সুরকি দিয়ে তৈরি।

জানা গেছে, তৎকালীন খানবাড়ীর লোকজনসহ কিছু গ্রামবাসী মিলে মসজিদটির জন্য মোট ৫৮ শতক জমি ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪১ শতক জমিতে রয়েছে কবরস্থান। এই মসজিদের নির্মাণকৌশলে গ্রিক ও কোরিনথিয়ান রীতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়, যা এটিকে আরও বিশেষত্ব দান করেছে। বাইরে থেকে বিশাল আকৃতির মনে হলেও, এর ভেতরটা ততটা প্রশস্ত নয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে দুটি জানালা রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ইমাম ব্যতীত তিনটি কাতারে ১২ জন করে মোট ৩৬ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মসজিদের বাইরের অংশে আরও প্রায় অর্ধশত মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নজরদারিতে ফ্যামিলি কার্ড, জালিয়াতি ঠেকাতে আসছে স্মার্ট যাচাই ব্যবস্থা

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী খানবাড়ী জামে মসজিদ: দুই শতাব্দীর স্থাপত্য ও কষ্টিপাথর চুরির আক্ষেপ

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দুইশ বছরেরও বেশি পুরোনো মুসলিম স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন শেরপুরের ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ। ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি তার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য সুপরিচিত। ১৯৯৯ সাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তত্ত্বাবধানে থাকলেও, দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে এটি বেশ নাজুক অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে, যা এর ঐতিহ্যকে নতুন জীবন দিয়েছে।

কালের আবর্তে ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ নামেই এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ধারণা করা হয়, বক্সার বিদ্রোহের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর সময়ে আজিমউল্লাহ খান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় মসজিদের দরজার ওপর মূল্যবান কষ্টিপাথরে আরবি ভাষায় এর প্রতিষ্ঠাকাল হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ সাল খোদাই করা ছিল। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সেই ঐতিহাসিক কষ্টিপাথরটি চুরি হয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আক্ষেপের সৃষ্টি করেছে।

মসজিদটির গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এটি বর্গাকার এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয় দিকই সমান ২৭ ফুট। এর ভেতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের মাঝখানে বড় গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় ১২টি মিনার রয়েছে। চার কোণায় শোভা পাচ্ছে চারটি সুউচ্চ মিনার। মসজিদে প্রবেশপথ মাত্র একটি। এর ভেতরের মেহরাব এবং দেয়ালজুড়ে রয়েছে নানা কারুকাজ সমৃদ্ধ ফুলদানি ও ফুলের নকশা। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি চার ফুট প্রশস্ত, যা প্রাচীন চুন ও সুরকি দিয়ে তৈরি।

জানা গেছে, তৎকালীন খানবাড়ীর লোকজনসহ কিছু গ্রামবাসী মিলে মসজিদটির জন্য মোট ৫৮ শতক জমি ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪১ শতক জমিতে রয়েছে কবরস্থান। এই মসজিদের নির্মাণকৌশলে গ্রিক ও কোরিনথিয়ান রীতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়, যা এটিকে আরও বিশেষত্ব দান করেছে। বাইরে থেকে বিশাল আকৃতির মনে হলেও, এর ভেতরটা ততটা প্রশস্ত নয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে দুটি জানালা রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ইমাম ব্যতীত তিনটি কাতারে ১২ জন করে মোট ৩৬ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মসজিদের বাইরের অংশে আরও প্রায় অর্ধশত মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।