ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ: ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কারণ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করবে বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি পরিকল্পিত হামলা বাতিলের কথা জানান। কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ এখানেই প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

বুশেহর বন্দর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, খার্গ দ্বীপ দখল করা তার দীর্ঘদিনের ‘পছন্দের’ একটি বিষয় ছিল।

মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই দ্বীপের চারপাশের গভীর জলরাশি একে একটি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করে। এই গভীরতার কারণে বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে নোঙর করতে পারে এবং এশীয় বাজারের জন্য, বিশেষ করে চীনের মতো প্রধান আমদানিকারকদের জন্য, অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা সহজ হয়। এখানকার তেল টার্মিনালগুলোর দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই করার সক্ষমতা রয়েছে, যদিও বর্তমানে রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়, তবে তা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এমন হামলা তেহরানকে উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে উস্কে দিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে এবং যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা হ্যারি কেইন: সংকটে গোল, জয়ে নেতৃত্ব

ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ: ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কারণ

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করবে বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি পরিকল্পিত হামলা বাতিলের কথা জানান। কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ এখানেই প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

বুশেহর বন্দর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, খার্গ দ্বীপ দখল করা তার দীর্ঘদিনের ‘পছন্দের’ একটি বিষয় ছিল।

মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই দ্বীপের চারপাশের গভীর জলরাশি একে একটি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করে। এই গভীরতার কারণে বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে নোঙর করতে পারে এবং এশীয় বাজারের জন্য, বিশেষ করে চীনের মতো প্রধান আমদানিকারকদের জন্য, অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা সহজ হয়। এখানকার তেল টার্মিনালগুলোর দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই করার সক্ষমতা রয়েছে, যদিও বর্তমানে রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়, তবে তা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এমন হামলা তেহরানকে উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে উস্কে দিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে এবং যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত করবে।