ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে, যা সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। তবে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এই উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিলের ইঙ্গিত এবং শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে এমন আভাস সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির খবরের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, তবে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য করতে পারে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে, যার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি। এর ফলে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহান্তেই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে স্বাভাবিক করে তুলবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা হ্যারি কেইন: সংকটে গোল, জয়ে নেতৃত্ব

মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে, যা সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। তবে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এই উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিলের ইঙ্গিত এবং শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে এমন আভাস সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির খবরের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, তবে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য করতে পারে। এর ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে, যার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি। এর ফলে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহান্তেই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে স্বাভাবিক করে তুলবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।