ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন ও হলরুমের নির্মাণকাজ গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ছয় কোটি ৮২ লাখ টাকার এই সরকারি প্রকল্পে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের রড, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী অরক্ষিত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।
জানা যায়, খুলনার মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় এবং ২০২৪ সালের জুন মাসে এটি শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজের মাত্র ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদার ২০ মিলি রডের পরিবর্তে ১৬ মিলি রড ব্যবহার করে। এই অনিয়মের কারণে নির্মিত ১২টি আরসিসি পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে, নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ না করেই ২০২৪ সালেই ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। গত ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশটি বাতিল করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা ভবনটির কেবল দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। মূল ভবনের পাশেই কনফারেন্স রুমের ছাদে দীর্ঘদিন আগে বিছানো রডগুলোতে মরিচা ধরে গেছে এবং অধিকাংশ রড চুরি হয়ে গেছে, যা ভবনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) যোবায়েত হোসাইন জানান, কার্যাদেশটি সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে যৌথ পরিমাপের জন্য তিনটি নোটিস পাঠানো হলেও তিনি এখনো কোনো সহযোগিতা করেননি। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার যোগাযোগ না করলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যৌথ পরিমাপ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীকালে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামাল খান পাশার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 



















