ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিগারেটের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে কঠোর বিধিমালা: রাজস্ব ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ

দেশের রাজস্ব আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে তামাক খাত থেকে, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে সিগারেট থেকে। প্রতি অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পেলেও, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিগারেটের অবৈধ উৎপাদন ও চোরাচালান। বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর আদলে নিম্নমানের তামাক ব্যবহার করে নকল সিগারেট তৈরি ও বাজারজাতকরণের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সিগারেটের বাজারের প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ অবৈধ কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা থেকে সরকার প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। এই পরিস্থিতিতে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিমালা আরোপ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশ্বব্যাপী অনুসৃত আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক সাতটি বিষয়কে এই বিধিমালায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেম চালু, প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড ব্যবস্থা, ডিজিটাল ব্যান্ডরোল মনিটরিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তামাক খাতের অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও ভুয়া নথি ব্যবহার করে দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে, কেবল ম্যানুয়াল অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নতুন এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেমের আওতায়, সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে একটি ইউনিক ডিজিটাল কোড থাকবে যা কারখানা থেকে উৎপাদনের সময়ই সরকারি সার্ভারে নিবন্ধিত হবে। কারখানা থেকে বের হওয়া, ডিস্ট্রিবিউটরের গুদামে পৌঁছানো, পাইকারি বাজারে বিক্রি এবং খুচরা দোকানে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে রেকর্ড করা হবে। এতে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে এবং কোনো কারখানা উৎপাদন গোপন রেখে বাজারে পণ্য ছাড়তে পারবে না। এছাড়াও, সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড যুক্ত করা হবে, যা সাধারণ ভোক্তা বা পরিদর্শক মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করলেই উৎপাদনের তারিখ, কারখানার নাম, ব্যান্ডরোল নম্বর এবং ভ্যাট-সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুলিশের বড় অভিযান: ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

সিগারেটের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে কঠোর বিধিমালা: রাজস্ব ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ১০:২৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দেশের রাজস্ব আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে তামাক খাত থেকে, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে সিগারেট থেকে। প্রতি অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পেলেও, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিগারেটের অবৈধ উৎপাদন ও চোরাচালান। বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর আদলে নিম্নমানের তামাক ব্যবহার করে নকল সিগারেট তৈরি ও বাজারজাতকরণের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সিগারেটের বাজারের প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ অবৈধ কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা থেকে সরকার প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। এই পরিস্থিতিতে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিমালা আরোপ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশ্বব্যাপী অনুসৃত আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক সাতটি বিষয়কে এই বিধিমালায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেম চালু, প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড ব্যবস্থা, ডিজিটাল ব্যান্ডরোল মনিটরিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তামাক খাতের অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও ভুয়া নথি ব্যবহার করে দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে, কেবল ম্যানুয়াল অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নতুন এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেমের আওতায়, সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে একটি ইউনিক ডিজিটাল কোড থাকবে যা কারখানা থেকে উৎপাদনের সময়ই সরকারি সার্ভারে নিবন্ধিত হবে। কারখানা থেকে বের হওয়া, ডিস্ট্রিবিউটরের গুদামে পৌঁছানো, পাইকারি বাজারে বিক্রি এবং খুচরা দোকানে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে রেকর্ড করা হবে। এতে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে এবং কোনো কারখানা উৎপাদন গোপন রেখে বাজারে পণ্য ছাড়তে পারবে না। এছাড়াও, সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড যুক্ত করা হবে, যা সাধারণ ভোক্তা বা পরিদর্শক মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করলেই উৎপাদনের তারিখ, কারখানার নাম, ব্যান্ডরোল নম্বর এবং ভ্যাট-সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন।