বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়লাভের স্মৃতি অত্যন্ত বিরল। ২০০৫ সালে কার্ডিফে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর দীর্ঘ ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য। এই দুটি উল্লেখযোগ্য অর্জনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে একটি নাম—নাফিস ইকবাল। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি ছিলেন খেলোয়াড়, আর ২০২৬ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সময় তিনি ছিলেন জাতীয় দলের ম্যানেজার। অর্থাৎ, বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া-বধের এই দুই অধ্যায়েরই তিনি অংশীদার, তবে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায়।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৮৬ রানে (ডিএলএস পদ্ধতিতে) অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে। এই জয়টি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে জয় এবং প্রায় ২১ বছর পর প্রথম। এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর নাফিস ইকবাল তার ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “২১ বছর আগে যে দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল, সেই দলের একজন সদস্য ছিলাম। আর আজ আবার যে দল জিতল, সেই ইউনিটের অংশও আমি। দুই ভিন্ন ভূমিকায়। আলহামদুলিল্লাহ।”
নাফিসের এই পোস্টটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ক্রিকেটপ্রেমী এটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন। ২০০৫ সালের কার্ডিফের ম্যাচটি এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে হারানো বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই দলে তরুণ ওপেনার হিসেবে ছিলেন নাফিস ইকবাল। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় না খেললেও পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পদে যুক্ত হন এবং বর্তমানে জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর এবং প্রথম ওয়ানডেতেই স্বাগতিকদের এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দুই যুগের দুই স্মরণীয় জয়—একটিতে ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে এবং অন্যটিতে ড্রেসিংরুমের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে।
রিপোর্টারের নাম 



















