ঢাকা: সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে প্রায় ৭৯ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল বা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, যিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন। তদন্তে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদটিও ভুয়া বলে উঠে এসেছে। তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই সনদ গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচনায় এসেছেন। ১৯৮৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি দেশব্যাপী সমালোচিত হয়েছিলেন।
মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের মতো হাজার হাজার ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করে রাষ্ট্র ও সরকারকে প্রতারিত করছেন। তারা সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন এবং বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে মোট নিবন্ধিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কমার কথা থাকলেও বাংলাদেশে উল্টো চিত্র দেখা গেছে; দিন যত যাচ্ছে, তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ততই বাড়ছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে আরও প্রায় দেড় হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও এক ধরনের বেকায়দায় পড়েছে।
সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ৭৮ হাজার ৯৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রাথমিক তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে, যেখানে এক লাখ দুই হাজার ৪৫৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ পর্যন্ত আটবার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৭৬টি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে। তবে এখনো ৭৯ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জামুকায় আবেদন করা অধিকাংশই নিজেদের শরণার্থী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে জামুকার পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) উপ-সচিব মোহাম্মদ উল্যাহ জানিয়েছেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে এবং যাচাই-বাছাই করেই বাদ দেওয়া হচ্ছে।’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 



















