রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে চা দোকানি সালাউদ্দিন লিটন জুলাই বিপ্লবে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলার ২২তম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন।
সাক্ষী সালাউদ্দিন লিটন জানান, তার বর্তমান বয়স প্রায় ৩৮ বছর এবং তিনি নোয়াখালীর বাসিন্দা। গত বছরের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ি কাজলা ফুটওভার ব্রিজের উত্তর পাশে তার চা-বিস্কুটের দোকান ছিল। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে তায়িম, শাহরিয়ার ও রাহাত তার দোকানে আসে। কথা বলার এক পর্যায়ে গুলির শব্দ শুনতে পান তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রাবাড়ি থানা থেকে পুলিশ এসে তাকে দোকানের শাটার বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। শাটার বন্ধ করে দোকানের ভেতরে চার জন বসে থাকা অবস্থায় কিছুক্ষণ পর পুলিশ আবার শাটার খুলতে বলে। পুলিশ বাইরে থেকে গুলি করার হুমকি দিলে তিনি আত্মসমর্পণ করতে বলেন এবং শাটার খুলে দেন।
দোকানের শাটার খোলার পর পুলিশ দোকানে প্রবেশ করে। সালাউদ্দিনের অভিযোগ, পুলিশ তাকে থাপ্পড় মারে এবং রাহাতকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তায়িম ও শাহরিয়ারকেও একইভাবে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হয় এবং তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ তার দোকানে ঢুকে চিপস ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ২৫ হাজার টাকা ও সিগারেট নিয়ে যায়।
সাক্ষী আরও জানান, পুলিশ তার দিকে রাইফেল তাক করে রাখে এবং তাকে মারধর করতে থাকে। এরপর তাকে দোকানের শাটার বন্ধ করতে বলা হয়। দোকান থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান তায়িম মাটিতে পড়ে আছে এবং শাহরিয়ার তাকে ওঠানোর চেষ্টা করছে। তারা দুজনে মিলে তায়িমকে ওঠানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসা করে কী করছে। তারা তায়িমের গুলি লাগার কথা বলে এবং হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানালে পুলিশ জানায় তারা ব্যবস্থা করবে। পুলিশ তাদের চলে যেতে বলে, অন্যথায় গুলি করার হুমকি দেয়। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনার দুদিন পর শাহারিয়ার তাকে ফোন করে জানায় যে তায়িম ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















