ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নাহিয়ান রবিন (২৩) নামে এক কলেজছাত্রকে জন্মদিনের কেক কেটে ফেরার পথে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে পৌর শহরের শিলাসী মাজার বাড়ি রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন। এই ঘটনায় রবিনের বন্ধু মাসুম (২৪) আহত হয়েছেন।
পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও পৌর এলাকার কলেজ রোডের মোতালেব মিয়ার ছেলে মো. রাজিব মিয়া (৪১) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, ১০০ পিস ইয়াবা, একটি সুইস গিয়ার এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, সোমবার ছিল নাহিয়ান রবিনের ২৩তম জন্মদিন। রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও পশু হাসপাতাল রোডের বউ বাজারের পাশে এক আয়োজন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কেক কাটেন তিনি। মায়ের হাতে জন্মদিনের ভাত খাওয়ার তাগাদা দিয়ে তিনি অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করতে চেয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বন্ধু মাসুমের মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা দেন রবিন। মাজারবাড়ি রোড ও কলাবাগান রোডের মোড়ে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তারা রবিন ও মাসুমের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এরপর পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাদের রাস্তায় ফেলে দেয়। মাসুম কোনোমতে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও দুর্বৃত্তরা রবিনকে পিটিয়ে ও কোপাতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা রবিনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে রাত সাড়ে তিনটার দিকে রবিন মারা যান।
রবিনের মা শান্তা বেগম (৪২) কান্নারত অবস্থায় বলেন, ছেলে তাকে ফোন করে জানাচ্ছিল যে সে আসছে এবং জন্মদিনে মায়ের হাতে ভাত খাবে। কিন্তু তার বদলে ছেলের লাশ এসেছে। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন। রবিনের পিতা মোফাজ্জল হোসেন (৪৬) জানান, বাজারের ব্যবসায়ী মোতালেবের ছেলেদের সাথে অনেক আগে থেকেই তার ছেলের শত্রুতা ছিল এবং তিনিও হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়েছেন।
গফরগাঁও থানার ওসি আ.স.ম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















