নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এক মর্মান্তিক ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক শিশুর মাকে ধর্ষণের পর তা ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলেও, জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নাটোর শহরের এক রিকশাচালকের অসুস্থ শিশুকন্যাকে ৫ জুন সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিন রাতে, অর্থাৎ রোববার রাত ১০টার দিকে, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সুইপার অমিত (২৩) ওষুধ দেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে কৌশলে হাসপাতালের লিফটে ডেকে নিয়ে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। একই সময়ে, একই মহল্লার বাসিন্দা অন্য দুই সুইপার অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩) গোপনে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তারা ওই নারীকে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির মা ওয়ার্ডে অনুপস্থিত থাকায় এবং শিশুটির কান্না শুনে ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের ছয়তলার সিঁড়িঘরে যেতে দেখতে পান এবং রাত দুইটার দিকে তাদের সেখান থেকে আটক করে নিয়ে আসেন।
মামলার এজহার অনুযায়ী, আটকের সময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সুনাম রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত তিন সুইপারকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে। তবে, হাসপাতালের একাধিক সূত্র বলছে, অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। অবশেষে, ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লে মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর থানায় তিন সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
রিপোর্টারের নাম 



















