ইসলামের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে, বীর সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং পারস্যের হীরা নগরীর অধিবাসীদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক চুক্তিপত্রটি স্বাক্ষরিত হয় খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং হীরার মনোনীত প্রতিনিধি ও গোত্রপ্রধান আদির পুত্রদ্বয় আদি ও আমর, আমর ইবনে আবদুল মাসিহ, ইয়াস ইবনে কাবিসা এবং হাইরি ইবনে আকালের মধ্যে। হীরার অধিবাসীরা তাদের প্রতিনিধিদের এই চুক্তিতে সম্মতি জ্ঞাপন ও ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে অনুমোদন করেন।
চুক্তির মূল শর্তানুসারে, হীরার অধিবাসীরা প্রতি বছর ১ লক্ষ ৯০ হাজার দিরহাম অর্থ প্রদান করবেন। এই অর্থ জিজিয়া কর হিসেবে আদায় করা হবে, যা তাদের পার্থিব নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। এই করের আওতায় তাদের সন্ন্যাসী ও যাজকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে, যারা সংসার জীবন ত্যাগ করে ধর্ম সাধনায় নিয়োজিত এবং কোনো প্রকার পার্থিব সম্পদ বা উপার্জনের অধিকারী নন, তারা এই জিজিয়া কর থেকে অব্যাহতি পাবেন। একইভাবে, যারা উপার্জন বা সংসার জীবনে অক্ষম অথবা ভ্রমণরত সন্ন্যাসী হিসেবে পার্থিব জীবন ত্যাগ করেছেন, তারাও এই কর প্রদানে বাধ্য থাকবেন না।
মুসলিম পক্ষ এই চুক্তির অধীনে হীরার অধিবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে না। তবে, চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন বা বিশ্বাসঘাতকতা করলে, হীরার অধিবাসীদের প্রদত্ত নিরাপত্তা ও অঙ্গীকার বাতিল বলে গণ্য হবে এবং মুসলিম পক্ষ এই দায় থেকে মুক্ত থাকবে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তিপত্রটি হিজরি ১২ সনের রবিউল আউয়াল মাসে লিখিত হয়েছিল এবং এর লিখিত দলিল হীরার অধিবাসীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছিল। এই চুক্তি ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিজিত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পাদিত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক নিদর্শন, যা তৎকালীন মুসলিম প্রশাসনের ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতিফলন ঘটায়।
রিপোর্টারের নাম 



















