ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তিকে সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইসরাইলের গুপ্তচরবৃত্তিকে তাদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি এই হুমকিকে ‘উচ্চ’ শ্রেণি থেকে ‘আশঙ্কাজনক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ শুক্রবার প্রথম এই খবর জানায়, যা পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

পেন্টাগনের অধীন গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে নতুন শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করে সতর্কতা জারি করেছে। এর মূল কারণ হিসেবে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর ইসরাইলের নজরদারির চেষ্টা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী ভাবছে, তা জানার জন্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করলেও, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান আগ্রাসন শেষ করতে চাইছেন এবং ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সংঘাত পুনরায় শুরু করার পক্ষে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে আসছে। তবে ডিআইএ ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এই তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। সেই সময় গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের রাশ টানতে তেল আবিবকে চাপ দিচ্ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন, যা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহত ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ডিআইএ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ পলিসি কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তার সহকারী মাইকেল ডিমিনোর ওপর ইসরাইলের নজরদারির চেষ্টার প্রমাণ পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আগ্রাসনের আগে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরমাণুবিষয়ক আলোচনায় উইটকফ ছিলেন প্রধান আলোচক।

এনবিসি নিউজ ও নিউ ইয়র্ক টাইমস উভয় সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সূত্র ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে আল জাজিরা আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পায়নি। এছাড়া, আমেরিকায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তিকে সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইসরাইলের গুপ্তচরবৃত্তিকে তাদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি এই হুমকিকে ‘উচ্চ’ শ্রেণি থেকে ‘আশঙ্কাজনক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ শুক্রবার প্রথম এই খবর জানায়, যা পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

পেন্টাগনের অধীন গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিকে নতুন শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করে সতর্কতা জারি করেছে। এর মূল কারণ হিসেবে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর ইসরাইলের নজরদারির চেষ্টা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরানে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী ভাবছে, তা জানার জন্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করলেও, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান আগ্রাসন শেষ করতে চাইছেন এবং ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সংঘাত পুনরায় শুরু করার পক্ষে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে আসছে। তবে ডিআইএ ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এই তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। সেই সময় গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসনের রাশ টানতে তেল আবিবকে চাপ দিচ্ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন, যা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহত ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ডিআইএ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ পলিসি কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তার সহকারী মাইকেল ডিমিনোর ওপর ইসরাইলের নজরদারির চেষ্টার প্রমাণ পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আগ্রাসনের আগে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরমাণুবিষয়ক আলোচনায় উইটকফ ছিলেন প্রধান আলোচক।

এনবিসি নিউজ ও নিউ ইয়র্ক টাইমস উভয় সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সূত্র ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে আল জাজিরা আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পায়নি। এছাড়া, আমেরিকায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।