কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের একটি সেতুর নির্মাণকাজ গত চার বছরেও শেষ হয়নি। নামমাত্র কিছু কাজ চললেও শেষ করার কোনো তাড়া দেখা যাচ্ছে না, যার ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাটাদহপাড়া ও গোয়ালপাড়ার বাসিন্দাদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে।
জানা যায়, চার বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা এলাকাবাসীর অপেক্ষাকে দীর্ঘায়িত করছে। স্থানীয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, পাটাদহপাড়া ও গোয়ালপাড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। যে সেতুটি সর্বোচ্চ এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, সেটি চার বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নামমাত্র কিছু কাজ চললেও প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণ এই সেতু ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো, যার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই বিলম্বের জন্য কারো কোনো জবাবদিহি নেই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবার মধ্যেই এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সময়ের অপচয় হচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা জানিয়েছেন, যেহেতু ঠিকাদার কাজটি সঠিকভাবে করছে না, তাই পূর্বের ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। চুক্তি বাতিল হলে বাকি কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























