ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বাবা-মা আহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারালো সাত মাস বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাও গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার হেবরন শহরের তেল রুমেইদা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির বয়স সাত মাস পূর্ণ হওয়ার দিনেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দিকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসায় তারা গুলি চালিয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ পরিবারটি ছিল নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। ঘটনার পর শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই সে মারা যায়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে, নিহত শিশুর বাবা ফাহদ আবু হাইকাল, যিনি বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার, ইসরাইলি বাহিনীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়িযোগে হেবরন যাচ্ছিলেন। দিনের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যে এটি একটি পরিবার। তিনি গাড়ি থামানোর সংকেত পেয়ে গাড়ি থামিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে হাত রেখেছিলেন। ঠিক তখনই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একটি বুলেট তার হাত ভেদ করে পেছনের সিটে বসা তার সাত মাসের শিশু স্যামের শরীরে লাগে।

শনিবার শিশুটির দাফন অনুষ্ঠানে ফাহদ আবু হাইকাল বলেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ স্থির ছিল এবং একটি সাত মাসের শিশুকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়ী সেনাসদস্যদের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তার স্ত্রীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন; তার হৃৎপিণ্ডের কাছে বুলেটের স্প্লিন্টার রয়েছে। শনিবার সকালে দাফন প্রার্থনার ঠিক আগে পরিবারকে তার সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ফিলিস্তিনি পতাকা দিয়ে মোড়ানো শিশুর লাশ তার বাবা বহন করেন। জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ উত্তর জর্ডান উপত্যকার তামোনে একই ধরনের ঘটনায় ইসরাইলি সেনারা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে আলী বানি ওদেহ (৩৮), তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান ওসমান (৬) ও মোহাম্মদকে (৫) হত্যা করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, বাবা-মা আহত

আপডেট সময় : ১১:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারালো সাত মাস বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাও গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার হেবরন শহরের তেল রুমেইদা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শিশুটির বয়স সাত মাস পূর্ণ হওয়ার দিনেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দিকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসায় তারা গুলি চালিয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ পরিবারটি ছিল নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। ঘটনার পর শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই সে মারা যায়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে, নিহত শিশুর বাবা ফাহদ আবু হাইকাল, যিনি বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার, ইসরাইলি বাহিনীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়িযোগে হেবরন যাচ্ছিলেন। দিনের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যে এটি একটি পরিবার। তিনি গাড়ি থামানোর সংকেত পেয়ে গাড়ি থামিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে হাত রেখেছিলেন। ঠিক তখনই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একটি বুলেট তার হাত ভেদ করে পেছনের সিটে বসা তার সাত মাসের শিশু স্যামের শরীরে লাগে।

শনিবার শিশুটির দাফন অনুষ্ঠানে ফাহদ আবু হাইকাল বলেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ স্থির ছিল এবং একটি সাত মাসের শিশুকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তদন্ত এবং দায়ী সেনাসদস্যদের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তার স্ত্রীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন; তার হৃৎপিণ্ডের কাছে বুলেটের স্প্লিন্টার রয়েছে। শনিবার সকালে দাফন প্রার্থনার ঠিক আগে পরিবারকে তার সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ফিলিস্তিনি পতাকা দিয়ে মোড়ানো শিশুর লাশ তার বাবা বহন করেন। জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ উত্তর জর্ডান উপত্যকার তামোনে একই ধরনের ঘটনায় ইসরাইলি সেনারা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে আলী বানি ওদেহ (৩৮), তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান ওসমান (৬) ও মোহাম্মদকে (৫) হত্যা করেছিল।