ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

সাংবাদিক নিপীড়নের ‘চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানের প্রতি সিপিজের আহ্বান

সাংবাদিক ‘নিপীড়নের চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানকে সিপিজের আহ্বান বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে নিজেদের বিবৃতি দেয় নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি। সাংবাদিক ‘নিপীড়নের চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানকে সিপিজের আহ্বান নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম Published : 03 Jun 2026, 12:02 AM 8 Shares facebook sharing buttontwitter sharing buttonwhatsapp sharing buttonsharethis sharing button বাংলাদেশে বছর কয়েক ধরে ‘সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র’ ভেঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানয়েছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস- সিপিজে। এ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দলটির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করার কথা বলেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান করেছে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে তিনটি সরকার এসেছে। দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ প্রশাসন, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় থাকা তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। প্রতিটি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সময়ই সাংবাদিকরা আটক, অভিযুক্ত করা, নজরদারি, আক্রমণ এবং কুৎসার শিকার হয়েছেন। যার বেশির ভাগই ঘটেছে সদ্য পতন হওয়া সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্য বা সমর্থনের কারণে।” পুলিশ দেশজুড়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান এবং তালিকা করছে- সম্প্রতি ইংরেজি সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এর এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবেও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। সিপিজে বলছে, ২০২৫ সালে তারা রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগের অন্তত ১০টি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে, যার বেশিরভাগই বিএনপি এবং এর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা হয়েছিল। সরকারকে এসব সহিংসতার নিন্দা জানাতে আহ্বান করে সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনা না করেই অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নির্দেশ দিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদারের অভিযোগ, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রায়শই প্রতিটি নতুন সরকার তাদের আগের প্রশাসনের পক্ষে সমর্থন থাকা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নিয়েছে। “তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্ষমতার ১০০ দিন পার হলেও খুব কম অর্থপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।” সরকার এরইমধ্যে বিভিন্ন মামলায় বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলাগুলো প্রত্যাহার করে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলেও পরামর্শ তার। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বন্ধ করা, ‘মব সন্ত্রাস’ থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করা, কুৎসা রটানো বন্ধ করা এবং যে আইনগুলোর কারণে এসব করা সম্ভব হচ্ছে, সেগুলো সংশোধনের তাগিদ দেন তিনি। কুনাল বলেন, “সরকার এই পদক্ষেপগুলো নিলে, তা হবে একটি চক্র ভাঙা। তবে এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে। আবার সাংবাদিকরা কাকে সমর্থন করছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তা এখানে বিবেচ্য হবে না। এই চক্রটি ভাঙার অর্থ হবে এটাই।” বিবৃতিতে বাংলাদেশে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ১০টি প্রধান পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিজে। পদক্ষেপগুলো হল- ১. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা। ২. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্যবহার বন্ধ করা। ৩. রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ৪. মবের হাত থেকে সাংবাদিক ও বার্তাকক্ষকে রক্ষা করা। ৫. সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা খারিজ করা। ৬. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবহার না হয় সেজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংস্কার ২০০৯-এর সংস্কার। ৭. মিডিয়া রেগুলেটরি অর্ডিন্যান্সের খসড়া প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। ৮. সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে ব্যবহৃত পুরোনো আইন এবং নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন করা। ৯. অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ তৈরি। ১০. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারকে স্পষ্ট এবং বারবার জনসমক্ষে বিবৃতি দিতে হবে যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রয়োজনীয়তা এবং যারা কুৎসা রটানোর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেবে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।

হেডলাইন:

সাংবাদিক নিপীড়নের ‘চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানের প্রতি সিপিজের আহ্বান

প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা বন্ধ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন Committee to Protect Journalists। সংগঠনটি বলেছে, নতুন সরকার চাইলে অতীতের ‘সাংবাদিক নিপীড়নের চক্র’ ভেঙে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

মঙ্গলবার বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়। সিপিজের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, নজরদারি, হামলা এবং অপপ্রচারের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা কাজ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ তিনটি ভিন্ন সরকারের শাসন দেখেছে। দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও সাংবাদিকদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন।

সংগঠনটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

সিপিজের দাবি, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ঘটনাবলি কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির অন্তত ১০টি ঘটনার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে হবে এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছে তারা।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী Kunal Majumder বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকারগুলো প্রায়ই পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তার মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ভিন্ন ধরনের আচরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব সীমিত।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন মামলায় আটক সাংবাদিকদের মুক্তির মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, অপপ্রচার এবং জনতাকে উসকে দিয়ে হামলার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিজে মনে করে, সাংবাদিকদের প্রতি একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে। কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে বিবেচিত হন, সেটি কখনোই সাংবাদিকের নিরাপত্তা বা অধিকার নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে না।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনটি ১০টি সুপারিশও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিচারের উদ্যোগ পরিহার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, জনতার হামলা থেকে গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেওয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন আইনের সংস্কার।

এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অধ্যাদেশের অপব্যবহার বন্ধ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার, নজরদারি কাঠামোর সংস্কার, স্বীকৃতিপত্র ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বন্ধ করার সুপারিশ করেছে সিপিজে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারকে নিয়মিত ও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অপপ্রচার বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে সিপিজের এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগকেই সামনে এনেছে। এখন সরকার এসব সুপারিশকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আত্মপক্ষ শুনানিতে ক্ষমা চাইলেন আসামি

সাংবাদিক নিপীড়নের ‘চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানের প্রতি সিপিজের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সাংবাদিক ‘নিপীড়নের চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানকে সিপিজের আহ্বান বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে নিজেদের বিবৃতি দেয় নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি। সাংবাদিক ‘নিপীড়নের চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানকে সিপিজের আহ্বান নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম Published : 03 Jun 2026, 12:02 AM 8 Shares facebook sharing buttontwitter sharing buttonwhatsapp sharing buttonsharethis sharing button বাংলাদেশে বছর কয়েক ধরে ‘সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র’ ভেঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানয়েছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস- সিপিজে। এ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দলটির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করার কথা বলেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান করেছে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে তিনটি সরকার এসেছে। দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ প্রশাসন, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় থাকা তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। প্রতিটি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সময়ই সাংবাদিকরা আটক, অভিযুক্ত করা, নজরদারি, আক্রমণ এবং কুৎসার শিকার হয়েছেন। যার বেশির ভাগই ঘটেছে সদ্য পতন হওয়া সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্য বা সমর্থনের কারণে।” পুলিশ দেশজুড়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান এবং তালিকা করছে- সম্প্রতি ইংরেজি সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এর এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবেও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। সিপিজে বলছে, ২০২৫ সালে তারা রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগের অন্তত ১০টি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে, যার বেশিরভাগই বিএনপি এবং এর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা হয়েছিল। সরকারকে এসব সহিংসতার নিন্দা জানাতে আহ্বান করে সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনা না করেই অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নির্দেশ দিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদারের অভিযোগ, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রায়শই প্রতিটি নতুন সরকার তাদের আগের প্রশাসনের পক্ষে সমর্থন থাকা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নিয়েছে। “তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্ষমতার ১০০ দিন পার হলেও খুব কম অর্থপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।” সরকার এরইমধ্যে বিভিন্ন মামলায় বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলাগুলো প্রত্যাহার করে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলেও পরামর্শ তার। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ বন্ধ করা, ‘মব সন্ত্রাস’ থেকে সাংবাদিকদের রক্ষা করা, কুৎসা রটানো বন্ধ করা এবং যে আইনগুলোর কারণে এসব করা সম্ভব হচ্ছে, সেগুলো সংশোধনের তাগিদ দেন তিনি। কুনাল বলেন, “সরকার এই পদক্ষেপগুলো নিলে, তা হবে একটি চক্র ভাঙা। তবে এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে। আবার সাংবাদিকরা কাকে সমর্থন করছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তা এখানে বিবেচ্য হবে না। এই চক্রটি ভাঙার অর্থ হবে এটাই।” বিবৃতিতে বাংলাদেশে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ১০টি প্রধান পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিজে। পদক্ষেপগুলো হল- ১. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা। ২. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্যবহার বন্ধ করা। ৩. রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ৪. মবের হাত থেকে সাংবাদিক ও বার্তাকক্ষকে রক্ষা করা। ৫. সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা খারিজ করা। ৬. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবহার না হয় সেজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংস্কার ২০০৯-এর সংস্কার। ৭. মিডিয়া রেগুলেটরি অর্ডিন্যান্সের খসড়া প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। ৮. সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে ব্যবহৃত পুরোনো আইন এবং নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন করা। ৯. অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ তৈরি। ১০. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারকে স্পষ্ট এবং বারবার জনসমক্ষে বিবৃতি দিতে হবে যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রয়োজনীয়তা এবং যারা কুৎসা রটানোর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেবে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।

হেডলাইন:

সাংবাদিক নিপীড়নের ‘চক্র’ ভাঙতে তারেক রহমানের প্রতি সিপিজের আহ্বান

প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা বন্ধ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন Committee to Protect Journalists। সংগঠনটি বলেছে, নতুন সরকার চাইলে অতীতের ‘সাংবাদিক নিপীড়নের চক্র’ ভেঙে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

মঙ্গলবার বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়। সিপিজের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, নজরদারি, হামলা এবং অপপ্রচারের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা কাজ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ তিনটি ভিন্ন সরকারের শাসন দেখেছে। দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও সাংবাদিকদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন।

সংগঠনটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

সিপিজের দাবি, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ঘটনাবলি কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির অন্তত ১০টি ঘটনার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে হবে এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছে তারা।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী Kunal Majumder বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকারগুলো প্রায়ই পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তার মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ভিন্ন ধরনের আচরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব সীমিত।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন মামলায় আটক সাংবাদিকদের মুক্তির মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, অপপ্রচার এবং জনতাকে উসকে দিয়ে হামলার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিজে মনে করে, সাংবাদিকদের প্রতি একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে। কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে বিবেচিত হন, সেটি কখনোই সাংবাদিকের নিরাপত্তা বা অধিকার নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে না।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনটি ১০টি সুপারিশও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিচারের উদ্যোগ পরিহার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, জনতার হামলা থেকে গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেওয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন আইনের সংস্কার।

এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অধ্যাদেশের অপব্যবহার বন্ধ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার, নজরদারি কাঠামোর সংস্কার, স্বীকৃতিপত্র ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বন্ধ করার সুপারিশ করেছে সিপিজে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারকে নিয়মিত ও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অপপ্রচার বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে সিপিজের এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগকেই সামনে এনেছে। এখন সরকার এসব সুপারিশকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।