ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

চিরনিদ্রায় শায়িত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এর পর কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমেদের শ্যালক আলমগীর তালুকদার বলেন, ‘আজ সকালে হেলিকপ্টারে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় নিয়ে আসা হয়। জোহরের‌ নামাজ শেষে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার জন্মভূমি ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তার বাড়িতে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তোফায়েল আহমেদকে তার বাবা-মার পাশেই শায়িত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জানাজায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।’
এদিকে, জানাজায় অংশ নিতে বেলা ১২টার পর থেকে লোকজন স্কুলমাঠে আসতে শুরু করেন। এ সময় মাঠের বিভিন্ন স্থানে বসে সবাই তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের সফলতার কথাগুলো আলোচনা করছিলেন। বিশেষ করে, ভোলার প্রতি তোফায়েল আহমেদের যে ভালোবাসা তা তারা অকপটে স্বীকার করে এখানকার উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোলা সদরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারাই ভোলার এমপি হয়েছেন সবাইকে তোফায়েল আহমেদের একটি বার্তা ছিল, এলাকার উন্নয়ন করতে হবে। আর তার কথার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ভোলার এমপিরাও এলাকার উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুর আগেই তার গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার পাশেই কবর দেওয়ার জন্য বলে যান। যা আজ বাস্তবায়ন করা হলো।’
ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘বিএনপি সহানুভূতিশীল এবং মানবিক দল। এ কারণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যবস্থা করেছে জেলা ছাত্রদল। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের মধ্যে সেই মানবিকতা মোটেই ছিল না। তারা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুর আলমের জানাজা পড়তে দেয়নি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরা হলো না পরিবারের, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

চিরনিদ্রায় শায়িত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজা ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এর পর কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমেদের শ্যালক আলমগীর তালুকদার বলেন, ‘আজ সকালে হেলিকপ্টারে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় নিয়ে আসা হয়। জোহরের‌ নামাজ শেষে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার জন্মভূমি ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তার বাড়িতে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তোফায়েল আহমেদকে তার বাবা-মার পাশেই শায়িত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জানাজায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।’
এদিকে, জানাজায় অংশ নিতে বেলা ১২টার পর থেকে লোকজন স্কুলমাঠে আসতে শুরু করেন। এ সময় মাঠের বিভিন্ন স্থানে বসে সবাই তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের সফলতার কথাগুলো আলোচনা করছিলেন। বিশেষ করে, ভোলার প্রতি তোফায়েল আহমেদের যে ভালোবাসা তা তারা অকপটে স্বীকার করে এখানকার উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোলা সদরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারাই ভোলার এমপি হয়েছেন সবাইকে তোফায়েল আহমেদের একটি বার্তা ছিল, এলাকার উন্নয়ন করতে হবে। আর তার কথার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ভোলার এমপিরাও এলাকার উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তোফায়েল আহমেদ মৃত্যুর আগেই তার গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার পাশেই কবর দেওয়ার জন্য বলে যান। যা আজ বাস্তবায়ন করা হলো।’
ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘বিএনপি সহানুভূতিশীল এবং মানবিক দল। এ কারণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যবস্থা করেছে জেলা ছাত্রদল। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের মধ্যে সেই মানবিকতা মোটেই ছিল না। তারা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুর আলমের জানাজা পড়তে দেয়নি।’