ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে সংঘর্ষ: আহত ৩০, ভাঙচুর বাড়িঘর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি যার যার বাড়িতে ভাগ হবে—এ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং চার-পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঈদের দিন সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর—এই দুই ভাগে বিভক্ত। গ্রামের কামরুজ্জামান মোল্লা মোল্লা পক্ষের এবং জাহাঙ্গীর মাতুব্বর মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন। কোরবানির মাংসের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হয়, সেটি এক জায়গায় করে বিতরণ করা হবে নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

এই বাগবিতণ্ডা দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, দা, ঢাল-সরকি, ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্য জানান, ঈদের আনন্দের দিনে কোরবানির মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোরবানির মাংস কোন স্থানে রেখে বণ্টন করা হবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। তবে আহতরা গুরুতর না হওয়ায় কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই এলাকায় ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি হয় এবং বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

ফরিদপুরে কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে সংঘর্ষ: আহত ৩০, ভাঙচুর বাড়িঘর

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি যার যার বাড়িতে ভাগ হবে—এ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং চার-পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঈদের দিন সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর—এই দুই ভাগে বিভক্ত। গ্রামের কামরুজ্জামান মোল্লা মোল্লা পক্ষের এবং জাহাঙ্গীর মাতুব্বর মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন। কোরবানির মাংসের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হয়, সেটি এক জায়গায় করে বিতরণ করা হবে নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

এই বাগবিতণ্ডা দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, দা, ঢাল-সরকি, ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৩০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্য জানান, ঈদের আনন্দের দিনে কোরবানির মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোরবানির মাংস কোন স্থানে রেখে বণ্টন করা হবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। তবে আহতরা গুরুতর না হওয়ায় কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই এলাকায় ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি হয় এবং বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় আছে।