রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী একটি দুর্ঘটনা। এই ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমে মোট ১১ জন মা ও ৬টি নবজাতক ছিল। রাত দুইটা থেকে তিনটার দিকে একজন মা অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভব করায় এসি বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অন্যান্য শিশুদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে ভোর ছয়টার দিকে শিশুদের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে এবং একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
রমনা বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের ক্রাইমসিন ইউনিটসহ তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নবজাতকগুলো কীভাবে মারা গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে দুই দিন বলে জানা গেছে এবং তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছিল।
ঘটনার পর দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে। হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, যে ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ১১ জন মা এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ ছয়টি শিশু ছিল। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন। তিনি আরও বলেন, এই ওয়ার্ডে সিজারের পর মা ও শিশুদের রাখা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে একজন স্বজনও থাকতে পারেন। যেহেতু এটি একটি এসি ওয়ার্ড, তাই অনেক সময় ঠান্ডা লাগলে রোগী ও স্বজনেরা সিস্টারকে এসি বন্ধ করতে বলেন।
অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, হঠাৎ করে দুটি শিশু অসুস্থ বোধ করলে তাদের হাসপাতালের নিউ নেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। রাত তিনটার পর ডাক্তাররা তাদের পরীক্ষা করে জানান, শিশুরা ভালো আছে। এরপর তাদের ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নিতে বলা হয়। তিনি আরও বলেন, ভোর ৬টার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ও মায়েরা দেখতে পান, শিশুদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এরপর ছয় শিশুকেই নিউ নেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দুটি শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চারটি শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পরে ওই চারটি শিশুকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 





















