ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

স্থবির পুলিশ সংস্কার: জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জাতীয় নির্বাচনের পর বড় রাজনৈতিক সংঘাত কমলেও মব ভায়োলেন্স, মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত পুলিশ সংস্কারের অগ্রগতিও থমকে আছে।

সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী শক্তি যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বা জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে।’’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের যদি সত্যিই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ গড়ার লক্ষ্য থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রণীত পুলিশ অধ্যাদেশটি সংসদে আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করা হলো না কেন? পরে প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুযোগ তো ছিলই।

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল স্থিতিশীলতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে মানুষের প্রত্যাশা ছিল— নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হবে এবং পুলিশ সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।

কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশার বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে করা অধ্যাদেশটি সংসদে পাশ না হওয়ায় সেটি কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আংশিক ফিরে এলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাবোধ তেমন বাড়েনি। মানুষ চাইছে— নিরাপদ চলাচল ও হয়রানিমুক্ত আইনশৃঙ্খলা-ব্যবস্থা। নির্বাচনের আগে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল পুলিশ সংস্কার। লক্ষ্য ছিল, পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, জবাবদিহি বাড়ানো, তদন্ত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এসবের কাঠামোগত কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, সংস্কার শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক ক্ষমতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের ঘোষণা

স্থবির পুলিশ সংস্কার: জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত

আপডেট সময় : ১২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জাতীয় নির্বাচনের পর বড় রাজনৈতিক সংঘাত কমলেও মব ভায়োলেন্স, মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত পুলিশ সংস্কারের অগ্রগতিও থমকে আছে।

সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী শক্তি যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বা জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে।’’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের যদি সত্যিই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ গড়ার লক্ষ্য থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রণীত পুলিশ অধ্যাদেশটি সংসদে আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করা হলো না কেন? পরে প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুযোগ তো ছিলই।

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল স্থিতিশীলতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে মানুষের প্রত্যাশা ছিল— নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হবে এবং পুলিশ সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।

কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশার বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে করা অধ্যাদেশটি সংসদে পাশ না হওয়ায় সেটি কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আংশিক ফিরে এলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাবোধ তেমন বাড়েনি। মানুষ চাইছে— নিরাপদ চলাচল ও হয়রানিমুক্ত আইনশৃঙ্খলা-ব্যবস্থা। নির্বাচনের আগে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল পুলিশ সংস্কার। লক্ষ্য ছিল, পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, জবাবদিহি বাড়ানো, তদন্ত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এসবের কাঠামোগত কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, সংস্কার শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক ক্ষমতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন।