ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির পশুর যত্ন: ঈদুল আজহার আগে ও পরে করণীয়

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই সময়ে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করবেন। অনেকেই ইতিমধ্যে কোরবানির পশু কিনেছেন। তবে পশু কেনার পর তা কোরবানির আগ পর্যন্ত সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ পশুর যত্ন নেওয়ার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

সুস্থ পশু কেনার পর তাকে যতটা সম্ভব কম হাঁটিয়ে বা গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া উচিত। বাড়িতে এনে প্রথমেই পশুকে পটাশ (পিপিএম) পানি দিয়ে গোসল করানো ভালো। পশুহাট থেকে ফেরার পর হাত-পা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গোসল করা আবশ্যক। প্রথমে পশুকে ৩-৫ লিটার স্যালাইন পানি পান করানো যেতে পারে। পেটফাঁপা বা বদহজম থাকলে ১ কেজি পানিতে ১০০ গ্রাম খাবার সোডা মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া যেতে পারে। এরপর কিছু কাঁচা ঘাস বা শুকনো খড় খেতে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর দানাদার খাদ্য যেমন—কুঁড়া, ভুসি, খৈল ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে।

কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত পশুর থাকার জায়গা অবশ্যই উপযুক্ত হতে হবে, যাতে সে দাঁড়াতে ও শোবার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এতে মাংসের গুণগত মান বজায় থাকবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পশুকে গোসল করাতে হবে। সকালে ও রাতে খড় বা ঘাস (দানাদার খাদ্য নয়) খেতে দিতে হবে। দিনে কেবল দুইবার দানাদার খাদ্য দেওয়া যাবে, যার মোট পরিমাণ পশুর শারীরিক ওজনের এক শতাংশের বেশি হবে না। পশুর সামনে সবসময় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবে। সারাদিন পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস ও খড় খেতে দিতে হবে।

কোরবানির ১২ ঘণ্টা আগে থেকে দানাদার খাদ্য বন্ধ করে শুধু খড় ও পানি খেতে দিতে হবে। কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে অবিলম্বে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। কোরবানির সকালে কেবল খাবার সোডা মিশ্রিত পানি পান করানো যেতে পারে, অন্য কোনো খাবার দেওয়া উচিত নয়।

কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করা উচিত, যত্রতত্র নয়। একাধিক বিকল্প থাকলে নাগরিক সুবিধা বিবেচনা করে একটি সার্বজনীন স্থান নির্বাচন করতে হবে। জবাইয়ের আগে নির্ধারিত স্থানে গর্ত খুঁড়ে রাখতে হবে। পশুকে ভালোভাবে বাঁধার জন্য পর্যাপ্ত পাটের নতুন বা পরিষ্কার দড়ি আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। জবাইয়ের সময় পশু যাতে কম কষ্ট পায়, সেদিকে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ ও লক্ষ্য রাখতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

কোরবানির পশুর যত্ন: ঈদুল আজহার আগে ও পরে করণীয়

আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই সময়ে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করবেন। অনেকেই ইতিমধ্যে কোরবানির পশু কিনেছেন। তবে পশু কেনার পর তা কোরবানির আগ পর্যন্ত সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ পশুর যত্ন নেওয়ার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

সুস্থ পশু কেনার পর তাকে যতটা সম্ভব কম হাঁটিয়ে বা গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া উচিত। বাড়িতে এনে প্রথমেই পশুকে পটাশ (পিপিএম) পানি দিয়ে গোসল করানো ভালো। পশুহাট থেকে ফেরার পর হাত-পা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গোসল করা আবশ্যক। প্রথমে পশুকে ৩-৫ লিটার স্যালাইন পানি পান করানো যেতে পারে। পেটফাঁপা বা বদহজম থাকলে ১ কেজি পানিতে ১০০ গ্রাম খাবার সোডা মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া যেতে পারে। এরপর কিছু কাঁচা ঘাস বা শুকনো খড় খেতে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর দানাদার খাদ্য যেমন—কুঁড়া, ভুসি, খৈল ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে।

কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত পশুর থাকার জায়গা অবশ্যই উপযুক্ত হতে হবে, যাতে সে দাঁড়াতে ও শোবার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এতে মাংসের গুণগত মান বজায় থাকবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পশুকে গোসল করাতে হবে। সকালে ও রাতে খড় বা ঘাস (দানাদার খাদ্য নয়) খেতে দিতে হবে। দিনে কেবল দুইবার দানাদার খাদ্য দেওয়া যাবে, যার মোট পরিমাণ পশুর শারীরিক ওজনের এক শতাংশের বেশি হবে না। পশুর সামনে সবসময় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবে। সারাদিন পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস ও খড় খেতে দিতে হবে।

কোরবানির ১২ ঘণ্টা আগে থেকে দানাদার খাদ্য বন্ধ করে শুধু খড় ও পানি খেতে দিতে হবে। কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে অবিলম্বে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। কোরবানির সকালে কেবল খাবার সোডা মিশ্রিত পানি পান করানো যেতে পারে, অন্য কোনো খাবার দেওয়া উচিত নয়।

কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করা উচিত, যত্রতত্র নয়। একাধিক বিকল্প থাকলে নাগরিক সুবিধা বিবেচনা করে একটি সার্বজনীন স্থান নির্বাচন করতে হবে। জবাইয়ের আগে নির্ধারিত স্থানে গর্ত খুঁড়ে রাখতে হবে। পশুকে ভালোভাবে বাঁধার জন্য পর্যাপ্ত পাটের নতুন বা পরিষ্কার দড়ি আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। জবাইয়ের সময় পশু যাতে কম কষ্ট পায়, সেদিকে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ ও লক্ষ্য রাখতে হবে।