ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঈদের আগে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার টানাপোড়েন: দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। হাতে মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের অধিকাংশ পশুর হাটে প্রত্যাশিত বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। টানা দুই দিনের বৃষ্টি, বিক্রেতাদের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকা, ক্রেতাদের দাম কমার অপেক্ষার কৌশল এবং খামারিদের উচ্চমূল্যের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির পশুর বাজারে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হাটে পশুর সরবরাহ কম নয়; বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর উপস্থিতি বেশি। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিক্রেতারা উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে কম দামে গরু ছাড়তে নারাজ। ফলে কোরবানির বাজারে এখন চলছে এক ধরনের ‘অপেক্ষার খেলা’—ক্রেতারা দাম কমার জন্য অপেক্ষা করছেন, আর বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তের উচ্চমূল্যের ক্রেতার জন্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের বাজারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ এখন আবেগতাড়িত না হয়ে হিসাব করে কোরবানি দিচ্ছেন। আর এই বাস্তবতাই পুরো বাজারের ধরন বদলে দিয়েছে।

রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর এবং কেরানীগঞ্জের হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের গরুর সংখ্যা প্রচুর থাকলেও সেগুলোর সামনে ক্রেতার ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। বেশিরভাগ মানুষ ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুর বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সীমিত বাজেটের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় অংশ ছোট গরুকেই এখন ‘সাশ্রয়ী কোরবানি’ হিসেবে বিবেচনা করছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরু। ছোট ছাগলের চাহিদাও বেড়েছে। অনেকে যৌথ কোরবানির পরিবর্তে নিজস্ব সামর্থ্যের মধ্যে ছোট গরু কিনে নিচ্ছেন।

এবারের বাজারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় গরুর দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা বাস্তব বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। হাটে দেখা গেছে, যে গরুর প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। আবার ৩ লাখ টাকার গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এর ফলে অনেক ক্রেতা দরদাম করেও গরু কিনতে পারছেন না। অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই আশায় যে ঈদের আগের রাতে বড় গরুর দাম কিছুটা কমতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নসাৎ করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

ঈদের আগে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার টানাপোড়েন: দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ১২:১৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। হাতে মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের অধিকাংশ পশুর হাটে প্রত্যাশিত বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। টানা দুই দিনের বৃষ্টি, বিক্রেতাদের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকা, ক্রেতাদের দাম কমার অপেক্ষার কৌশল এবং খামারিদের উচ্চমূল্যের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির পশুর বাজারে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হাটে পশুর সরবরাহ কম নয়; বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর উপস্থিতি বেশি। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিক্রেতারা উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে কম দামে গরু ছাড়তে নারাজ। ফলে কোরবানির বাজারে এখন চলছে এক ধরনের ‘অপেক্ষার খেলা’—ক্রেতারা দাম কমার জন্য অপেক্ষা করছেন, আর বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তের উচ্চমূল্যের ক্রেতার জন্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের বাজারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ এখন আবেগতাড়িত না হয়ে হিসাব করে কোরবানি দিচ্ছেন। আর এই বাস্তবতাই পুরো বাজারের ধরন বদলে দিয়েছে।

রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর এবং কেরানীগঞ্জের হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের গরুর সংখ্যা প্রচুর থাকলেও সেগুলোর সামনে ক্রেতার ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। বেশিরভাগ মানুষ ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ৫০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুর বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সীমিত বাজেটের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় অংশ ছোট গরুকেই এখন ‘সাশ্রয়ী কোরবানি’ হিসেবে বিবেচনা করছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরু। ছোট ছাগলের চাহিদাও বেড়েছে। অনেকে যৌথ কোরবানির পরিবর্তে নিজস্ব সামর্থ্যের মধ্যে ছোট গরু কিনে নিচ্ছেন।

এবারের বাজারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় গরুর দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা বাস্তব বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। হাটে দেখা গেছে, যে গরুর প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। আবার ৩ লাখ টাকার গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এর ফলে অনেক ক্রেতা দরদাম করেও গরু কিনতে পারছেন না। অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই আশায় যে ঈদের আগের রাতে বড় গরুর দাম কিছুটা কমতে পারে।