বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি এটিকে একটি ‘নৈরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ শুরু হয়েছে।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট পর্যায়ের বাসে তা মানা হচ্ছে না। তিনি গতকালের (সোমবার) একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। পরে জানা যায়, সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে ওই যাত্রীরা একটি রড বোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ কম খরচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, প্রতি বছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পেরে খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখো মানুষ ট্রেনের ছাদ, বাসের ছাদ, খোলা ট্রাক এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। সংগঠনটি অভিযোগ করে, যাদের শ্রমে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাদের বছরে দুটি ঈদে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। সংগঠনটি অবিলম্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাস বা ট্রাকের ছাদে ভ্রমণ, ট্রেনের ছাদে ওঠা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে যাত্রীদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















