ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নতুন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জ: ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানা সংকট

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের প্রথম ১০০ দিন পার করেছে। সাধারণত এই সময়টিকে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। তবে, এবারের বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। নতুন সরকারকে শুরু থেকেই একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক অব্যবস্থাপনার উত্তরাধিকার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকারের শীর্ষ নেতারা দাবি করে আসছেন যে তারা একটি ‘ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতি’ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে এমন এক বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে যা থেকে উত্তরণে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, আগের সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও উল্লেখ করেছেন যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ের বড় অংশ জুড়েই ছিল সংকট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের ওপর চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ, শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা—সব মিলিয়ে অর্থনীতি এক জটিল অবস্থায় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার এখনও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস এড়াতে পারলেও স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। অর্থনীতির অনেক সূচক এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, কারণ গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

নতুন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জ: ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানা সংকট

আপডেট সময় : ১০:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের প্রথম ১০০ দিন পার করেছে। সাধারণত এই সময়টিকে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। তবে, এবারের বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। নতুন সরকারকে শুরু থেকেই একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক অব্যবস্থাপনার উত্তরাধিকার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকারের শীর্ষ নেতারা দাবি করে আসছেন যে তারা একটি ‘ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতি’ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে এমন এক বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে যা থেকে উত্তরণে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, আগের সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও উল্লেখ করেছেন যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ের বড় অংশ জুড়েই ছিল সংকট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের ওপর চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ, শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা—সব মিলিয়ে অর্থনীতি এক জটিল অবস্থায় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার এখনও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস এড়াতে পারলেও স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। অর্থনীতির অনেক সূচক এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, কারণ গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।