ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্তদের শেষ সম্বল হারানোর বেদনা

রাজধানীর কালশী বস্তি এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নিরলসভাবে কাজ করেছে। অবশেষে সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণের ঘোষণা দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের পর বস্তির পোড়া অংশের চারপাশে ক্ষতিগ্রস্তদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তারা ফায়ার সার্ভিস আগুন পুরোপুরি নেভানোর ঘোষণা দিলে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী এবং যানবাহনের আরোহীরাও থেমে পোড়া অংশ দেখার চেষ্টা করছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডস্থল ও এর আশেপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ইউনিট ব্যবহার করতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এ ধরনের আগুনে সাত থেকে আটটি ইউনিট কাজ করে। কিন্তু কালশী বস্তিতে পানির কোনো উৎস না থাকায় অতিরিক্ত পানিবাহী গাড়ি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি গাড়িই একটি ইউনিট হিসেবে গণনা করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এমাদুল নামের এক বাসিন্দা বলেন, তিনি কাজে বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখেন তার ঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী-সন্তান নিরাপদে আছে, কিন্তু ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের কাজ শেষ হলে তিনি গিয়ে দেখবেন কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার একটি তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই মানুষগুলো আজ রাত কীভাবে কাটাবে, সেটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খোঁজখবর রাখা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্তদের শেষ সম্বল হারানোর বেদনা

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

রাজধানীর কালশী বস্তি এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নিরলসভাবে কাজ করেছে। অবশেষে সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণের ঘোষণা দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের পর বস্তির পোড়া অংশের চারপাশে ক্ষতিগ্রস্তদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তারা ফায়ার সার্ভিস আগুন পুরোপুরি নেভানোর ঘোষণা দিলে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী এবং যানবাহনের আরোহীরাও থেমে পোড়া অংশ দেখার চেষ্টা করছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডস্থল ও এর আশেপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ইউনিট ব্যবহার করতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এ ধরনের আগুনে সাত থেকে আটটি ইউনিট কাজ করে। কিন্তু কালশী বস্তিতে পানির কোনো উৎস না থাকায় অতিরিক্ত পানিবাহী গাড়ি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি গাড়িই একটি ইউনিট হিসেবে গণনা করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এমাদুল নামের এক বাসিন্দা বলেন, তিনি কাজে বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখেন তার ঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী-সন্তান নিরাপদে আছে, কিন্তু ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের কাজ শেষ হলে তিনি গিয়ে দেখবেন কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার একটি তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই মানুষগুলো আজ রাত কীভাবে কাটাবে, সেটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খোঁজখবর রাখা হবে।