ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ফেরিওয়ালার মৃত্যু, একই গ্রামের সাত জন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি গ্রামের সাত জনসহ মোট ১০ জন ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই বাবা, স্বামী, সন্তান বা ভাই হারিয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ১০ জন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে একই গ্রামের সাত জন রয়েছেন। তারা হলেন- রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আবদুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০)। এছাড়াও পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫) নিহত হয়েছেন।

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ব্যক্তিরা সাইকেলে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল, ভাঙা মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতেন। সর্বশেষ তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর এলাকায় ফেরি করে পণ্য কেনাবেচার কাজ করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে তারা বাড়ি ফিরছিলেন, কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। পথে ট্রাক উল্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং বিলাপ করে বলছিলেন, ‘রাতে দুবার কথা হয়েছিল। মেয়ের জন্য খেলনা কিনেছে। সেই খবর শুনে মেয়ে কত খুশি। এখন আমার মেয়েকে কী জবাব দেব? আমার কী হবে?’ নিহত মাইনুর ইসলামের চাচাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, তার ভাই সোমবার রাতে ঈদ করতে বাড়িতে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। মাইনুর ছিলেন তার অসুস্থ বাবা-মা এবং স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন অসহায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ ফেরিওয়ালার মৃত্যু, একই গ্রামের সাত জন

আপডেট সময় : ১০:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি গ্রামের সাত জনসহ মোট ১০ জন ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই বাবা, স্বামী, সন্তান বা ভাই হারিয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ১০ জন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে একই গ্রামের সাত জন রয়েছেন। তারা হলেন- রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আবদুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০)। এছাড়াও পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫) নিহত হয়েছেন।

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ব্যক্তিরা সাইকেলে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল, ভাঙা মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতেন। সর্বশেষ তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর এলাকায় ফেরি করে পণ্য কেনাবেচার কাজ করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রডবোঝাই একটি ট্রাকে করে তারা বাড়ি ফিরছিলেন, কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। পথে ট্রাক উল্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং বিলাপ করে বলছিলেন, ‘রাতে দুবার কথা হয়েছিল। মেয়ের জন্য খেলনা কিনেছে। সেই খবর শুনে মেয়ে কত খুশি। এখন আমার মেয়েকে কী জবাব দেব? আমার কী হবে?’ নিহত মাইনুর ইসলামের চাচাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, তার ভাই সোমবার রাতে ঈদ করতে বাড়িতে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। মাইনুর ছিলেন তার অসুস্থ বাবা-মা এবং স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন অসহায়।