পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ত্যাগের এই মহৎ উৎসবকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে পুরান ঢাকার অলিগলিতে কোরবানির পশু কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হয়েছে। রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা, বাসাবাড়ির সামনের আঙিনা, গ্যারেজ এমনকি ভবনের নিচের ফাঁকা স্থানগুলোতেও এখন গরু-ছাগলের দেখা মিলছে। এই দৃশ্য পুরান ঢাকাজুড়ে এক চিরচেনা উৎসবের আমেজ ও প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছে।
হাটের ভিড় ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগাম কোরবানির পশু কিনে ফেলছেন। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, ঈদের শেষ মুহূর্তের উপচে পড়া ভিড় এবং পশুর দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই পছন্দের পশু কিনে বাড়িতে এনে রাখছেন। পর্যাপ্ত খালি জায়গা না থাকায় অনেকে বাড়ির সামনের গলিতে, কেউ ভবনের পার্কিং গ্যারেজে বা ছাদ সংলগ্ন স্থানে কোরবানির পশু রাখছেন।
লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, বংশাল, ওয়ারীসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলিতে ছোট-বড় অসংখ্য গরু-ছাগল সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে পাড়া-মহল্লার শিশু-কিশোরেরা বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত। তারা দল বেঁধে গরুকে ঘাস-খড় খাওয়াচ্ছে, গোসল করাচ্ছে এবং মুঠোফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করছে।
ওয়ারীর বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, “ঈদের শেষ দিকে হাটে পা ফেলার জায়গা থাকে না। তাই হাটে যখন ক্রেতার চাপ একটু কম ছিল, তখন সময় নিয়ে দেখেশুনে পছন্দের গরু কিনেছি। তাছাড়া শেষ সময়ে ভালো গরুর দাম আরও বাড়তে পারে বলেও মনে হয়েছে।”
আগেভাগে পশু কেনার আনন্দ থাকলেও, বাসাবাড়িতে রেখে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে গিয়ে ব্যস্ততাও বেড়েছে। পশুর খাবার সংগ্রহ, সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
লক্ষ্মীবাজার এলাকার বাসিন্দা সাহেদ আলী কোরবানির পশুর প্রতি মায়ার আবহ তৈরি হওয়া নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “একটু আগেই গরুটা কিনলাম, যাতে বাচ্চারা দেখতে পারে। তাছাড়া পশুকে কয়েক দিন নিজেরা যত্ন করলে একটা মায়ার সম্পর্ক তৈরি হয়— কোরবানির নিয়মই তো সেটা, নিজের প্রিয় ও মায়ায় জড়ানো বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি করা। ঢাকা শহরে অনেক দিন আগে গরু কিনে রাখার মতো জায়গা আমাদের নেই, তবুও যতদূর সম্ভব আগে কেনার চিন্তা থেকেই কেনা।”
রিপোর্টারের নাম 

























