ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে কি ভেস্তে যাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক চুক্তি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে তিনি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক ফোনালাপের সূত্র ধরে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এর পরেই পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে আসে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনো রূপরেখার অংশ ছিল না এবং এটি পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এই চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কাল ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে কি ভেস্তে যাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক চুক্তি?

আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে তিনি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক ফোনালাপের সূত্র ধরে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এর পরেই পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে আসে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনো রূপরেখার অংশ ছিল না এবং এটি পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এই চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’