বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রায়হান উদ্দিন সরকার, আশরাফুল আলম ও শাকিল আহমেদ। তারা সবাই ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী এবং নিজ নিজ এলাকার টিডিপি দলনেতা ছিলেন। আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা এবং কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা সদস্যদের সংগঠিত করছিল এবং অজ্ঞাত ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টাও চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ১৭ মে সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় ১৭৭ জন সদস্যের মধ্যে এই চক্র সক্রিয় ছিল। তারা ভাতা বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, চাকরি স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন দাবিকে সামনে এনে আন্দোলনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে। এসব দাবি আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ২১ মে আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, সমাবেশকে ঘিরে শৃঙ্খলা নষ্ট ও পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























