রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে যাচ্ছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে এবং আজই আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে বের হলে কৌশলে রামিসাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় স্বপ্না আক্তার। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে শিশুটির মরদেহ খাটের নিচে এবং মাথা একটি বালতির ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় স্বপ্না একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর রামিসার পরিবার তাকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পায়। কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে। সে জানায়, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিল না। তদন্তে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকেও মামলার অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক পরবর্তী ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























