ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান ও আমিরাতের বন্দর পর্যন্ত ইরানের নজরদারি সম্প্রসারণ: উপসাগরে নতুন উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালির সীমানা ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের কয়েকটি বন্দর পর্যন্ত নিজেদের সামুদ্রিক নজরদারি এলাকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি। তেহরানের এই পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের ভাষায় ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই মানচিত্রে ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারির আওতাধীন এলাকা’ হিসেবে যা দেখানো হয়েছে, তা হরমুজ প্রণালির সীমানা ছাড়িয়ে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ছিটমহল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

মানচিত্র অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এই অঞ্চলটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ বন্দর ছাড়িয়ে উপকূলীয় শহর উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে এটি আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর অতিক্রম করে প্রসারিত হয়েছে।

এই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত বা ট্রানজিটের জন্য অবশ্যই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

ইরানের ঘোষিত এই এলাকার মধ্যে অন্তত ‘লেসার টুনব’ দ্বীপের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারস্য উপসাগরের বিতর্কিত তিনটি দ্বীপের মধ্যে এটি একটি, যা বর্তমানে ইরান দ্বারা শাসিত হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মালিকানা দাবি করে আসছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরান এই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি গঠন করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব সুসংহত করা।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। এই প্রণালি পারাপারের জন্য ওই কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া, সব চিঠিপত্র বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পার্সিয়ান গালফ’ (পারস্য উপসাগর) শব্দটি ব্যবহার করা, রিয়ালে পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ‘আক্রমণকারী দেশগুলোর’ মালিকানাধীন জাহাজের ক্ষেত্রে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোয়াইনঘাটে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, প্রাণ হারালো ৩ স্কুলছাত্র

হরমুজ ছাড়িয়ে ওমান ও আমিরাতের বন্দর পর্যন্ত ইরানের নজরদারি সম্প্রসারণ: উপসাগরে নতুন উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালির সীমানা ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের কয়েকটি বন্দর পর্যন্ত নিজেদের সামুদ্রিক নজরদারি এলাকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি। তেহরানের এই পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের ভাষায় ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই মানচিত্রে ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারির আওতাধীন এলাকা’ হিসেবে যা দেখানো হয়েছে, তা হরমুজ প্রণালির সীমানা ছাড়িয়ে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ছিটমহল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

মানচিত্র অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এই অঞ্চলটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ বন্দর ছাড়িয়ে উপকূলীয় শহর উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে এটি আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর অতিক্রম করে প্রসারিত হয়েছে।

এই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত বা ট্রানজিটের জন্য অবশ্যই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

ইরানের ঘোষিত এই এলাকার মধ্যে অন্তত ‘লেসার টুনব’ দ্বীপের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারস্য উপসাগরের বিতর্কিত তিনটি দ্বীপের মধ্যে এটি একটি, যা বর্তমানে ইরান দ্বারা শাসিত হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মালিকানা দাবি করে আসছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরান এই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি গঠন করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব সুসংহত করা।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। এই প্রণালি পারাপারের জন্য ওই কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া, সব চিঠিপত্র বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পার্সিয়ান গালফ’ (পারস্য উপসাগর) শব্দটি ব্যবহার করা, রিয়ালে পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ‘আক্রমণকারী দেশগুলোর’ মালিকানাধীন জাহাজের ক্ষেত্রে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।