ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চার মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এরই মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ভাগ্য নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে মিশ্র সংকেত পাওয়া গেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান বর্তমানে মার্কিন প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করছে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত করছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বশেষ প্রস্তাব দুই পক্ষের মধ্যকার ব্যবধান কিছুটা কমাতে সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তেহরানের জবাবের জন্য তিনি কয়েক দিন অপেক্ষা করবেন। তার মতে, কয়েক দিন অপেক্ষা করে যদি একটি যুদ্ধ থামানো যায় এবং মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায়, তবে এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ।
তবে মূল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কতটা দূরত্ব রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ধরে রাখার বিষয়ে ইরানের অনড় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান কী, তা পরিষ্কার নয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নির্দেশনা জারি করেছেন যেখানে বলা হয়েছে যে, দেশটির প্রায় অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না। ইরান দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের পক্ষে জোর দিয়ে আসছে, যা সরাসরি মার্কিন অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার চেয়ে এক ধাপ দূরে।
সর্বশেষ এই প্রস্তাব পাঠানোর আগে ওয়াশিংটন ইরানের একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই প্রস্তাবে আলোচনার জন্য দুই স্তরের একটি কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, যার প্রথম ধাপে সব যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতা অবসানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল, যা ইরানের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















