ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ভারতে তরুণদের ক্ষোভের প্রতীক ‘তেলাপোকা’, সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে ছাড়িয়ে ‘সিজেপি’

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যঙ্গাত্মক এক অনলাইন আন্দোলন এখন দেশটির কোটি কোটি তরুণের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ প্রতীক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি প্যারোডি রাজনৈতিক দল। প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য পরিচিত এই পতঙ্গটিকেই এখন ভারতীয় যুবসমাজ তাদের সহনশীলতা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে।

এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা এতটাই দ্রুত ছড়িয়েছে যে, যাত্রা শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ৮৮ লাখ অনুসারীর রেকর্ডকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপক জানান, এই আন্দোলনটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বিষয় ছিল না। মূলত সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ও হতাশ তরুণদের আবেগ প্রকাশের কোনো জায়গা ছিল না বলেই এটি এত দ্রুত ব্যাপকতা পেয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়। বেকারত্ব ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান এক শুনানিতে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো যারা চাকরি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আন্দোলনের নামে সবাইকে আক্রমণ করে। বিচারপতির এই মন্তব্যকে তরুণ সমাজ চরম অবমাননাকর হিসেবে গ্রহণ করে। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, জালিয়াতি করে ডিগ্রি নেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করেই তিনি এমন কথা বলেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে প্রতিবাদের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে ‘সিজেপি’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন মিম এবং ব্যঙ্গাত্মক নির্বাচনি স্লোগান প্রচার করা হচ্ছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে লাখ লাখ তরুণ এই আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতাও এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২০১২ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা সাবেক রাজনৈতিক কর্মী অভিজিৎ দিপকের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাপন আমলের দুর্নীতির খোঁজে বিসিবিতে দুদকের অভিযান: তিন চিঠিতে নথিপত্র তলব

ভারতে তরুণদের ক্ষোভের প্রতীক ‘তেলাপোকা’, সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে ছাড়িয়ে ‘সিজেপি’

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ব্যঙ্গাত্মক এক অনলাইন আন্দোলন এখন দেশটির কোটি কোটি তরুণের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ প্রতীক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি প্যারোডি রাজনৈতিক দল। প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য পরিচিত এই পতঙ্গটিকেই এখন ভারতীয় যুবসমাজ তাদের সহনশীলতা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে।

এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা এতটাই দ্রুত ছড়িয়েছে যে, যাত্রা শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ৮৮ লাখ অনুসারীর রেকর্ডকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপক জানান, এই আন্দোলনটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বিষয় ছিল না। মূলত সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ও হতাশ তরুণদের আবেগ প্রকাশের কোনো জায়গা ছিল না বলেই এটি এত দ্রুত ব্যাপকতা পেয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়। বেকারত্ব ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান এক শুনানিতে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো যারা চাকরি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আন্দোলনের নামে সবাইকে আক্রমণ করে। বিচারপতির এই মন্তব্যকে তরুণ সমাজ চরম অবমাননাকর হিসেবে গ্রহণ করে। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, জালিয়াতি করে ডিগ্রি নেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করেই তিনি এমন কথা বলেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে প্রতিবাদের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে ‘সিজেপি’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন মিম এবং ব্যঙ্গাত্মক নির্বাচনি স্লোগান প্রচার করা হচ্ছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে লাখ লাখ তরুণ এই আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতাও এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২০১২ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা সাবেক রাজনৈতিক কর্মী অভিজিৎ দিপকের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।