ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা, লক্ষ্য পূরণে দুই মাসে লাগবে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির মুখে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের বাকি মাত্র দুই মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সংস্থাটিকে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ মে ও জুন—এই দুই মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৮৮ হাজার কোটি টাকা করে রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআরের গড় মাসিক আদায় ছিল মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকা। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। যদিও সাধারণত রাজস্ব আদায়ে ১৫ শতাংশ বা তার কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হয়। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি। ফলে বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

রাজস্ব আদায়ে এই ধীরগতির পেছনে অর্থনীতির স্থবিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং পরবর্তী সময়ের অনিশ্চয়তা রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও অক্টোবরে তা নেমে আসে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কিছুটা উন্নতি হলেও জানুয়ারিতে আবারও ধাক্কা লাগে। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি। মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা রাজস্ব আহরণে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতির এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ রাজস্ব আদায় কম হলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে আরও বেশি ঋণ নিতে হয়, যা ইতোমধ্যেই ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি সেবাখাতের অর্থায়নেও প্রভাব পড়তে পারে। তাদের মতে, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট কাটানো সম্ভব হবে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা, লক্ষ্য পূরণে দুই মাসে লাগবে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০২:৩৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির মুখে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের বাকি মাত্র দুই মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সংস্থাটিকে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ মে ও জুন—এই দুই মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৮৮ হাজার কোটি টাকা করে রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআরের গড় মাসিক আদায় ছিল মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকা। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। যদিও সাধারণত রাজস্ব আদায়ে ১৫ শতাংশ বা তার কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হয়। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি। ফলে বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

রাজস্ব আদায়ে এই ধীরগতির পেছনে অর্থনীতির স্থবিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং পরবর্তী সময়ের অনিশ্চয়তা রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও অক্টোবরে তা নেমে আসে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কিছুটা উন্নতি হলেও জানুয়ারিতে আবারও ধাক্কা লাগে। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি। মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং এপ্রিলে তা দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা রাজস্ব আহরণে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতির এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ রাজস্ব আদায় কম হলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে আরও বেশি ঋণ নিতে হয়, যা ইতোমধ্যেই ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি সেবাখাতের অর্থায়নেও প্রভাব পড়তে পারে। তাদের মতে, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট কাটানো সম্ভব হবে না।