ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মিরপুরে শিশু হত্যা: অভিযুক্ত স্বামীর দায় স্বীকার, স্ত্রী কারাগারে

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আসামি সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। অপর এক আবেদনে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসাথে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকি সত্ত্বেও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে। সে আরও জানায়, রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কেটে আলাদা করে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এরপর মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে ঘটনার কথা স্বীকার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমিয়ত নেতার ফাঁসির রায় বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

মিরপুরে শিশু হত্যা: অভিযুক্ত স্বামীর দায় স্বীকার, স্ত্রী কারাগারে

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আসামি সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। অপর এক আবেদনে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসাথে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকি সত্ত্বেও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করে। সে আরও জানায়, রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কেটে আলাদা করে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এরপর মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে ঘটনার কথা স্বীকার করে।