ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আমের মৌসুমে ঠকে না যেতে চান? জেনে নিন সেরা জাতগুলো

গ্রীষ্মের দাবদাহে রসালো ফলের সমাহার বাজারে ভরপুর থাকে। তবে সব ফলের মধ্যে আমের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে অন্যরকম। স্বাদ, গন্ধ ও জাতভেদে ভিন্নতার কারণে আম সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বাজারে নানা ধরনের আমের উপস্থিতি অনেক সময় ক্রেতাদের দ্বিধায় ফেলে দেয়। কোন আমটি কোন জাতের বা কখন কোন আমটি সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের স্বাদ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দেখে জনপ্রিয় জাতগুলো সহজেই চেনা সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি আমের বৈশিষ্ট্য এবং বাজারে এদের সহজলভ্যতার সময়কাল সম্পর্কে।

মৌসুমের শুরুতে বাজারে আসা গোপালভোগ আম আকারে মাঝারি হয় এবং নিচের দিকে কিছুটা সরু থাকে। পরিপক্ব গোপালভোগ আমের গায়ে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়। এই আম আঁশবিহীন ও মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে এবং সাধারণত মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করে।

সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য হিমসাগর আম অনেকের কাছেই সেরা। এর আকৃতি গোলাকার ও খানিকটা লম্বাটে। পাকার পরেও অনেক সময় এর খোসা সবুজাভ থাকে। হিমসাগরের শাঁস কমলা রঙের, আঁশ কম এবং এটি বেশ মিষ্টি হয়। মে মাসের শেষ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই আম বাজারে পাওয়া যায়।

গোলাকার এবং মসৃণ গড়নের ল্যাংড়া আমের খোসা হালকা সবুজ রঙের হয়, যা পুরোপুরি হলুদ হয় না। এর বিশেষ সুগন্ধের কারণে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণত জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে ল্যাংড়া আম বাজারে আসতে শুরু করে।

লক্ষণভোগ বা লখনা আম দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। এটি পাকলে উজ্জ্বল হলুদ রং ধারণ করে এবং বোঁটার কাছে লালচে আভা দেখা যায়। স্বাদে মিষ্টি হলেও এতে হালকা টকভাব থাকে।

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম আকারে কিছুটা মোটা ও চওড়া হয়। এর শাঁস মাংসল এবং আঁশ কম থাকে। অনেক সময় খোসা কুঁচকে গেলেও ভেতরের অংশ ভালো থাকে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই আম পাকে।

ছোট থেকে মাঝারি আকারের আম্রপালির খোসা মসৃণ ও তেলতেলে হয়। এর শাঁস গাঢ় কমলা রঙের এবং এটি বেশ মিষ্টি। আম্রপালি আম তুলনামূলকভাবে বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়। জুনের শেষভাগ থেকে ভালো পাকা আম্রপালি বাজারে পাওয়া যায়।

আকারে বড় ফজলি ও আশ্বিনা আম দেখতে প্রায় একই রকম। ফজলি আম কিছুটা লম্বাটে এবং এর স্বাদ টক-মিষ্টি। আশ্বিনা আম বেশি সবুজাভ ও পেট মোটা ধরনের হয়। মৌসুমের শেষ দিকে এই দুই জাতের আম বেশি পাওয়া যায়।

বারোমাসি জাত হিসেবে পরিচিত কাটিমন আম বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। লম্বাটে গড়নের এই আম পাকার পর হলুদ রং ধারণ করে এবং সুঘ্রাণ ছড়ায়। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই জাতের আম বাজারে পাওয়া যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমিয়ত নেতার ফাঁসির রায় বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

আমের মৌসুমে ঠকে না যেতে চান? জেনে নিন সেরা জাতগুলো

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গ্রীষ্মের দাবদাহে রসালো ফলের সমাহার বাজারে ভরপুর থাকে। তবে সব ফলের মধ্যে আমের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে অন্যরকম। স্বাদ, গন্ধ ও জাতভেদে ভিন্নতার কারণে আম সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বাজারে নানা ধরনের আমের উপস্থিতি অনেক সময় ক্রেতাদের দ্বিধায় ফেলে দেয়। কোন আমটি কোন জাতের বা কখন কোন আমটি সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের স্বাদ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দেখে জনপ্রিয় জাতগুলো সহজেই চেনা সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি আমের বৈশিষ্ট্য এবং বাজারে এদের সহজলভ্যতার সময়কাল সম্পর্কে।

মৌসুমের শুরুতে বাজারে আসা গোপালভোগ আম আকারে মাঝারি হয় এবং নিচের দিকে কিছুটা সরু থাকে। পরিপক্ব গোপালভোগ আমের গায়ে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়। এই আম আঁশবিহীন ও মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে এবং সাধারণত মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করে।

সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য হিমসাগর আম অনেকের কাছেই সেরা। এর আকৃতি গোলাকার ও খানিকটা লম্বাটে। পাকার পরেও অনেক সময় এর খোসা সবুজাভ থাকে। হিমসাগরের শাঁস কমলা রঙের, আঁশ কম এবং এটি বেশ মিষ্টি হয়। মে মাসের শেষ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই আম বাজারে পাওয়া যায়।

গোলাকার এবং মসৃণ গড়নের ল্যাংড়া আমের খোসা হালকা সবুজ রঙের হয়, যা পুরোপুরি হলুদ হয় না। এর বিশেষ সুগন্ধের কারণে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণত জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে ল্যাংড়া আম বাজারে আসতে শুরু করে।

লক্ষণভোগ বা লখনা আম দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। এটি পাকলে উজ্জ্বল হলুদ রং ধারণ করে এবং বোঁটার কাছে লালচে আভা দেখা যায়। স্বাদে মিষ্টি হলেও এতে হালকা টকভাব থাকে।

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম আকারে কিছুটা মোটা ও চওড়া হয়। এর শাঁস মাংসল এবং আঁশ কম থাকে। অনেক সময় খোসা কুঁচকে গেলেও ভেতরের অংশ ভালো থাকে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই আম পাকে।

ছোট থেকে মাঝারি আকারের আম্রপালির খোসা মসৃণ ও তেলতেলে হয়। এর শাঁস গাঢ় কমলা রঙের এবং এটি বেশ মিষ্টি। আম্রপালি আম তুলনামূলকভাবে বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায়। জুনের শেষভাগ থেকে ভালো পাকা আম্রপালি বাজারে পাওয়া যায়।

আকারে বড় ফজলি ও আশ্বিনা আম দেখতে প্রায় একই রকম। ফজলি আম কিছুটা লম্বাটে এবং এর স্বাদ টক-মিষ্টি। আশ্বিনা আম বেশি সবুজাভ ও পেট মোটা ধরনের হয়। মৌসুমের শেষ দিকে এই দুই জাতের আম বেশি পাওয়া যায়।

বারোমাসি জাত হিসেবে পরিচিত কাটিমন আম বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। লম্বাটে গড়নের এই আম পাকার পর হলুদ রং ধারণ করে এবং সুঘ্রাণ ছড়ায়। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই জাতের আম বাজারে পাওয়া যেতে পারে।